বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যা: আরেক আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

May 18, 2021 | 6:17 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া আগের মামলায় গ্রেফতার হয়ে ওই আসামি কারাগারে আছেন। এবার তাকে নতুনভাবে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৮ মে) চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় আসামি শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা।

পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মিতু হত্যার পুরনো মামলায় তিন জন আসামি কারাগারে আছেন। পাঁচলাইশ থানায় দায়ের হওয়া নতুন মামলায় আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ারকে আমরা এর আগেই গ্রেফতারের অনুমতি পেয়েছি। শাহজাহানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় কর্মরত পাঁচলাইশ থানার জিআরও এসআই শাহীন ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘আবেদন আজ (মঙ্গলবার) আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেটি এখনো আদালতে উপস্থাপন করিনি। আগামীকাল (বুধবার) সেটি আদালতে দাখিল করব।’

মিতু হত্যায় জড়িতদের ব্যবহার করা মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে ২০১৬ সালের ১ জুলাই শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পিবিআই’র ওপর। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই মামলার।

বিজ্ঞাপন

গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

একইদিন (১২ মে) দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া।

বিজ্ঞাপন

ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বাবুল আক্তারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। একই মামলার আরেক আসামি মুসার ভাই সাইদুল ইসলাম শিকদার সাক্কুকে ১২ মে রাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ১৬ মে পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গ্রেফতার দেখানোর অনুমতি দেন আদালত।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন