বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: উপকূলের প্রতিরক্ষায় থাকবে সুন্দরবন

May 25, 2021 | 4:53 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এখন পর্যন্ত যে পথ ধরে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস, তাতে দেখা যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ ঝড়টির মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। তবে আক্রান্ত হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপদগুলোও। যেখানে প্রতিবারের মতো এবারও দেশের প্রতিরক্ষায় থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন।

বিজ্ঞাপন

এবারের ঘূর্ণিঝড়টি বিভিন্ন কারণেই ভয় জাগানিয়া। গেল কয়েক বছরে বঙ্গপসাগর থেকে যে কয়টি ঝড় উপকূলে উঠে এসেছে তার মধ্যে এই ঝড়টি আবর্তিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জায়গা নিয়ে। এর মধ্যে আবার চোখ রাঙাচ্ছে পূর্ণিমার ভরা জোয়ার আর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, ঝড় বড় হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভয় ভারতের তুলনায় কিছুটা কম।

বেশ কয়েকজন আবহাওয়াবিদ সারাবাংলাকে বলেন, ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তিত না হলে সুন্দরবনকে এবারও লড়তে হবে প্রবলভাবে। ফলে এই বনের প্রাণ-প্রকৃতি এবার ঝুঁকিতে থাকবে সবচেয়ে বেশি। ঝড়ের কিছু অংশ সুন্দরবন ঘেষে ভারতে ঢুকবে। ফলে এবারও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিরক্ষা দেয়াল হবে এই বন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মেঘমানচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টির উত্তাল এগিয়ে যাওয়া এখনও উড়িষ্যা আর পশ্চিমবাংলা অভিমুখে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যেই ওই দুটি প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ছে প্রবল ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাস। কম হলেও বাংলাদেশের উপকূলেও এই ঝড়ের প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে।

কলকাতার আবহাওয়া অফিস বলছে, আজকে আরও শক্তি বাড়িয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নেবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। বুধবার দিনের যেকোনো সময় এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়বে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম আঘাতটি পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপকে প্রথমে সামলাতে হবে। উড়িষ্যার পারাদ্বীপেরও রয়েছে একই রকম আশংকা।

বিজ্ঞাপন

ইয়াস যখন স্থলভাগে আঘাত হানবে তখন পূর্ণিমার জোয়ার থাকবে। তাই কলকাতার আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, তাদের উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। এটি হলে প্রাণহানি বেশি হওয়ার শংকা থাকে। তবে তারা বলছেন, ঝড়টি বাংলাদেশে বড় ধরনের আঘাত হানবে না।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। একইভাবে কক্সবাজার থেকে এখন ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা বন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছের সাগর বিক্ষুব্ধ অবস্থায় আছে। দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। তাদেরকে গভীর সাগরে যেতে না করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিএস/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন