বিজ্ঞাপন

শ্যামনগরের দুর্গাবাটি ও গাবুরা দিয়ে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে

May 26, 2021 | 2:10 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীর পানির কোথাও কোথাও ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর দাতিনাখালি, দূর্গাবাটি, রমজাননগর ও আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, কুড়িকাউনিয়া, কলিমাখালী, রুয়েরবিলসহ একাধিক স্থানের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ও বালির বস্তা দিয়ে তা মেরামতের প্রাণপন চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানিয়েছেন, শ্যামনগরের দুর্গাবাটি ও গাবুরা এই দুটি পয়েন্টে ২৫০ মিটার এলাকা দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। সেগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বালির বস্তা এবং মাটি দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জোয়ারের তীব্রতায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপকূলীয় এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কৈখালি, ঈশ্বরীপুর, রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলায় ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ১৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ মেট্রিকটন খাদ্য শস্য মজুদ রাখা হয়েছে। একই সাথে ২ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার নগদ টাকা আর্থিক সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ৪ হাজার ৮৮ জন সিপিডি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট। এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, উপকূলীয় দুই উপজেলায় ৬৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৪০টি পয়েন্ট খারাপ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এসব স্থানে কি হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিখার আলী রিপন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস দুপুরে দিকে সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করবে। তখন এটির গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার। তিনি আরও জানান, উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে।

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন