বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম থেকে ফেনী কারাগারে বাবুল আক্তার

May 29, 2021 | 6:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: স্ত্রী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ফেনীর উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুনের মামলায় গ্রেফতারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১৭ মে থেকে বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মো. তারিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাবুল আক্তারকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর খুনের সঙ্গে বাবুল আক্তার জড়িত, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবার মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহের বিষয়টি সরাসরি প্রকাশ করেন, যদিও শুরুতে তিনি বাবুলের পক্ষে সরব ছিলেন।

বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পড়ে পিবিআই’র ওপর। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই মামলার।

বিজ্ঞাপন

গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

এরপর ১২ মে দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন— মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া।

বিজ্ঞাপন

মোশাররফ হোসেনের মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৭ মে বাবুল আক্তারকে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় বসে থেকেও শেষপর্যন্ত জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি বাবুল আক্তার। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন