বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে ‘এই সময়ের সুযোগ নেওয়ার’ আহ্বান

June 2, 2021 | 1:58 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মিয়ানমারে এখন সামরিক জান্তা সরকার দেশ চালাচ্ছে। এই সুযোগে দেশটির সামরিক সরকারের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘকে ‘সুযোগ নেওয়ার’ আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজাও ও গিলিয়ান ট্রিগসের সঙ্গে বুধবার (২ জুন) সকালে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এসময় ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমারের এখন সামরিক সরকার দেশ চালাচ্ছে। তাই এই সরকারের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমি ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের বলেছি, মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব বিষয় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে দেখানো হোক, যেন মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয় এবং বিশ্বাস জন্মায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে ‘এই সময়ের সুযোগ নেওয়ার’ আহ্বান

বিজ্ঞাপন

ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা গত সোমবার (৩১ মে) রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আশ্রয় শিবির ভাসানচর পরিদর্শন করেন। ওই সময় একাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছিলেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা হতাশা থেকে এমন আচরণ করেছেন।

ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি গিলিয়ান ট্রিগস সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বড় শরণার্থী শিবিরগুলোর মধ্যে একটি। এখনকার পরিবেশ খুব ভালো।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পুরোটাই নির্ভর করছে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতার ওপর। তবে এখন মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল।

ভাসানচর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গিলিয়ান ট্রিগস বলেন, আশ্রয় শিবিরটি আমরা ঘুরে দেখেছি এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। ভাসানচর ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাব।

বিজ্ঞাপন

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজাও বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই নিরাপদ পরিবেশ তৈরির প্রধান দায়িত্ব মিয়ানমারের।

ইউএনএইচসিআরের দুই প্রতিনিধির কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সেনা সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দিতে পারেননি ইউএনএইচসিআরের দুই প্রতিনিধি।

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন