বিজ্ঞাপন

শেষ মুহূর্তের গোলে মান বাঁচলো বাংলাদেশের

March 27, 2018 | 7:16 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১৭ মাস পর আন্তর্জাতিক কোনো প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেই ভুটান বিপর্যয়ের পর থেকে নির্বাসনে যাওয়া দেশের ফুটবলে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছিল লাওস ম্যাচ। সেই ম্যাচকে ঘিরে কত প্রস্তুতি! হাই প্রোফাইল কোচ নিয়োগ, বিকেএসপি-কাতার ক্যাম্প, থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ। সব প্রস্তুতি ছিল বহুল প্রতিক্ষীত এই ম্যাচটি ঘিরে।

সেই ম্যাচে শিশুসুলভ ভুলে হারতে বসেছিল অ্যান্ড্রু ওর্ডের শিষ্যরা। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জালে বল জড়িয়ে ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকলো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

লাওসের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানে ম্যাচ ড্র করেছে জামাল-জাফর ইকবালরা। লাওসের এননিউন্যাটিপনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ৫টা ম্যাচটি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

গোল রক্ষক আশরাফুল আলম রানা, তপু বর্মন, জামাল ভুইয়া, ফয়সাল মাহমুদ, মামুনুল ইসলাম, জীবন, আব্দুল্লাহ, মামুন মিয়া, রহমত মিয়া, টুটুল বাদশা, জাফর ইকবালকে একাদশে রেখে দল মাঠে নামিয়েছে ওর্ড।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৮৩ তম স্থানে থাকা লাওসের বিপক্ষে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল না এতোদিন পরে ফুটবলে বাংলাদেশ। একটু গুছিয়েও নিচ্ছিল ওর্ডের শিষ্যরা।

বিজ্ঞাপন

তবে, ওই যে শঙ্কা! শিশুসুলভ ভুলে গোল খেতে পারে বাংলাদেশ! সেটাই হলো আজ। প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে মামুন মিয়া করে বসলেও শিশুসুলভ আচরণ! কংমাথিলাথের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেয়া বল ডি বক্সের ভেতরে পেয়ে যান মামুন মিয়া। বল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার ভুলটি কাজে লাগায় কংমাথিলাথ। বল জালে জড়িয়ে দলকে লাওসকে এগিয়ে নেন এই স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধের ৩৪ মিনিটে আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে মাসুক মিয়া জনিকে নামান ওর্ড। ম্যাচে ফিরেও আসছিল মামুনরা। হঠাত লাওসের আক্রমণ। ম্যাচের বয়স তখন ৪৫ মিনিট। ডি বক্সের ভেতরে আরেকটি ‘অপ্রত্যাশিত’ ফাউল। সঙ্গে সঙ্গে রেফারির বাঁশি। পেনাল্টি পেল লাওস। সেখান থেকে ব্যবধান বাড়ালো কিংমাথিলাথ। নিজের দ্বিতীয় গোলটি আসে তার পা থেকেই।

দ্বিতীয়ার্ধে বলতে গেলে শুধু বাংলাদেশই মাঠ মাতিয়েছে। ‘গোল খাওয়া যাবে না’ এমন নীতিতে রক্ষণভাগে খেলোয়াড় বাড়ায় লাওস। লাল-সবুজের বারংবার আক্রমণ বুক পেতে রক্ষণ করছে লাওস বাহিনী। কিছুতেই গোলের দর্শন মিলছে না বাংলাদেশের।
ত্রাতা সেই জাফর ইকবাল। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত ব্যাক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেশকে এগিয়ে দিলেন তিনি। এর আগেও অনূর্ধ্ব- ১৯য়ের একটি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে এই জাফরই পিছিয়ে থাকা দলকে জিতিয়েছিলেন দুরন্ত নৈপুণ্যে।

বিজ্ঞাপন

এরপর সুফিলের দুর্দান্ত ফিনিশিং। মান বাঁচালেন বাংলাদেশের। দেশের ফুটবল প্রেমিদের মনে যখন হাসফাঁস অবস্থা! এই বুঝি হারতে বসেছে বাংলাদেশ! ঠিক তখনই চমক। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দলকে সমতায় ফেরালেন সুফিল। নিজের প্রথম গোলটিও করলেন আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষিক্ত হওয়া স্বাধীনতা কাপের সেরা খেলোয়াড়।

শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করেছে দল। তবে, এই ড্র জয়ের কমও না। এখন সামনে সাফ আর এশিয়ান গেমস। সেখানে ভালো করাই মূল লক্ষ্য থাকবে কোচ-বাফুফে সবার।

সারাবাংলা/জেএইচ/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন