বিজ্ঞাপন

উপকূলীয় জনপদের উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

June 3, 2021 | 1:37 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। যা ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ উপকূলীয় জনপদের উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জলবায়ু পরিবর্তন ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে দূর্যোগের ঝুঁকি শীর্ষক জাতীয় সংলাপে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নাগরিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স আয়োজিত ওই সংলাপ সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

আলোচনায় অংশ নেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, আন্তর্জাতিক সংস্থা কেএনএইচ জার্মানির মাটিলদা টিনা বৈদ্য, পার্লামেন্টনিউজ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক পলাশ আহসান, কয়রা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম, বাগেরহাট সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, সাতক্ষীরার গাবুরা থেকে প্রধান শিক্ষক ইয়াশমিনুর রহমান লিংকন। মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল।

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকি বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সরকার জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিরসনে ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ নামে একশো বছরের কৌশল প্রণয়ন করেছে। সরকার উপকূলজুড়ে চার হাজার ২৯১ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এছাড়াও, দেশের বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অতিরিক্ত ৫২৩ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

এর বাইরেও, পরিবেশ অধিদফতরের অ্যাডাপটেশন ফান্ড এর অর্থায়নে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র তীরবর্তী ছোট দ্বীপসমূহে বিভিন্ন অভিযোজনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সংলাপে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানছে। যে কারণে, ওই অঞ্চলের মানুষ ঝুঁকিতে আছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বাঁধ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। যার মধ্যে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে তিন হাজার ৭৩৫ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্প চলতি সপ্তাহেই একনেক বৈঠকে পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. রুহুল হক এলাকার সকল জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে টেকসই বেড়িবাঁধ তৈরিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানান কারণে নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। নদী ড্রেজিং করা যেমন জরুরি তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের স্থায়ী বা টেকসই সংস্কার জরুরি। তিনি বেড়িবাঁধ তৈরিতে এলাকাবাসীর অভিজ্ঞতা, বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের ভূ-প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, স্বার্থান্বেষীমহল নিজেদের স্বার্থে ৬০এর দশকে নির্মিত দুর্বল বেড়িবাঁধে পাইপ ঢুকিয়ে, বাঁধের পাশে পুকুর খননসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করছে। যে কারণে ওই অঞ্চলের ঝুঁকি বেড়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি নিয়মিত নদী খনন ও টিআরএম-এর মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং বেড়িবাঁধকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে রক্ষার আহ্বান জানান।

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কিংবা সংস্কারের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা সরকার। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আর একটির কবলে পড়ে। বেড়িবাঁধ সংস্কারে প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কাজ হলেও নানান কারণে টেকসই হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সচেতনতা জরুরি।

এদিকে, মূল প্রবন্ধে বলা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবনে সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এরপর করোনা পরিস্থিতি ও গত বছরের সুপার সাইক্লোন আম্ফান এই সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে খুলনা-সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওই অঞ্চলের জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সুন্দরবনের তীরবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করা, উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধান এবং উকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠনের সুপারিশ করা হয়।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন