বিজ্ঞাপন

পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যুক্ত করার আহ্বান

June 5, 2021 | 9:30 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: ক্রমাগত পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নেচার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল কাউন্সিল (বিএনইসি)। একইসঙ্গে এই বছরের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য অর্থবহ করতে পরিবেশ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিএনইসি আয়োজিত এক মানবন্ধনে এই আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, বর্তমানে জলোচ্ছাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য মানুষই দায়ী। তাই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সচেতন  হতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরও দুর্যোগ জন্য অপেক্ষা করছে বলে সাবধান করেন বক্তারা।

বিএনইসি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশের জীববৈচিত্র ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। জীবনযাপনে খাদ্যসহ প্রায় সবকিছুতেই প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তে কৃত্রিমতায় অভ্যস্ত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শরীরের শক্তি কমে যাচ্ছে। অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগতে হচ্ছে।' তাই পরিবেশকে সুস্থ রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি সাইফুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ গবেষক অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন সমুদ্র পরিবেশ বিশজ্ঞ এসএম আতিকুর রহমান, সেভ আওয়ার সি’র মহাসচিব মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব আবু হানিফ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, 'সারা পৃথিবীজুড়েই পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব চলছে। পৃথিবীর ফুসফুস আমাজান বন ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রাণের সবচেয়ে বেশি অবস্থান সাগর আজ দূষিত। যে কারণে আজ আমরা অক্সিজেন সংকটে ভুগছি। সম্প্রতি ভারতের দিকে তাকালে এসবের বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়।'

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ইটভাটার বায়ু দূষণ, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, শহর ও কলকারখানার বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিপর্যয় হচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে ও একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, 'যদি একটি গাছও কাটার প্রয়োজন হয়, তা পরিবেশ আইন মেনেই করতে হবে। কারখানার পানি যেখান থেকে নেওয়ার জন্য অনুমোদন রয়েছে সেখান থেকেই নিতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে কারখান চালানো হলে আমাদের ভবিষ্যতে অন্ধকারে পর্যবসিত হতে বাধ্য। সুতরাং পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে আমাদের নিজেদের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের সুস্থ জীবনযাপনের স্বার্থেই।'

সমুদ্র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এসএম আতিকুর রহমান বলেন, 'সুন্দর এই পৃথিবী ক্রমেই অসুস্থ হচ্ছে। এই অসুস্থতার নামই হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ। অমরা নদী দূষণ করছি, পাহাড় কাটছি, উপকূল এলাকার ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করছি, কোরাল রিফ নষ্ট করছি। সব মিলিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসবে নেমেছি যেন। এই বছরের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্যকে অর্থবহ করতে হলে পরিবেশ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।' একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর স্বার্থে বাংলাদেশ ন্যাচার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল কাউন্সিলকে গঠনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

সেভ আওয়ার সি’র মহাসচিব মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, জীববৈচিত্র ধ্বংস করলে প্রাণে স্বস্তি আসে না। আমাদের সুস্থ জীবনের জন্য পরিবেশকে আগের জায়গায় ফিরে যেতে দিন। তিনি আরও বলেন, 'উন্নত দেশগুলো শিল্প বিপ্লবের নামে পরিবেশকে ধ্বংস করেছে আবার তারাই ক্লাইমেট চেঞ্জ নামক শব্দটির উৎপত্তি করেছে। উন্নত বিশ্ব তাদের দেশের পরিবেশ বাঁচানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা আগের জায়গায় আর ফিরতে পারছে না। এদিকে বাংলাদেশ না বুঝেই রামপালের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। জাতিসংঘ প্রণীত এসডিজি গোল অনুযায়ী আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।'

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন