বিজ্ঞাপন

চীনের বাজারে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি সম্ভব

June 9, 2021 | 10:11 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা : বিপুল জনসংখ্যার কারণে রফতানির পাশাপাশি পণ্য আমদানিরও শীর্ষ দেশ চীন। গত বছর চীন ২ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেছে। অথচ এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.০৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বাংলাদেশকে দেওয়া চীনের শুল্কমুক্ত সুবিধার ব্যবহার এবং দেশটি থেকে অগ্রাধিকামূলক বাণিজ্য সুবিধা (এফটিএ) নিতে পারলে বাংলাদেশের জন্য চীনের বাজারে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের আমদানি বাজারের কেবল ১ শতাংশ দখল করতে পারলেই বাংলাদেশ বছরে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৯ জুন) ‘বাংলাদেশ-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড রিলেশনস ইন দি আফটারমাথ অব দ্য কোভিড-১৯ গ্লোবাল পেন্ডামিক’ বিষয়ক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ সব কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান।

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বিসিসিসিআই সভাপতি গাজী গোলাম মর্তুজা, ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী, বিসিসিসিআই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দীন ইকবাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

মূল প্রবন্ধে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বলছে ২০২৮ সালে চীন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হবে। অন্যদিকে চীন এখনই বিশ্বের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ। দেশটি বর্তমান বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রফতানির পাশাপাশি চীনের আমদানি বাজারও বেশ বড়। সর্বশেষ বছরে দেশটি ২.৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার রফতানির বিপরীতে ২.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘চীন বৈশ্বিক বাজার থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে বাংলাদেশ এখন তার মাত্র ০.০৫ শতাংশ সরবরাহ করছে। এটি যদি ১ শতাংশে উন্নীত করা যায় তবে চীনের বাজারে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

ড. রাজ্জাক বলেন, ‘তৈরি পোশাকের বাজারের জন্য চীন একটি বড় আমদানি কেন্দ্র হিসাবে রূপান্তরিত হচ্ছে। চীনের আরএমজি বাজারের বতর্মানে ৭ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। যেখানে ভিয়েতনামের দখলে ১৯ শতাংশের বেশি। এখানে একটু নজর দিলেই বিশাল বাজার খুঁজে পাবে বাংলাদেশ।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট বাণিজ্য ছিল ১২.০৯ বিলিয়ন। এর মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ১১.৪৯ বিলিয়ন এবং চীন থেকে বাংলাদেশের রফতানি ৬০ মিলিয়ন।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে চীন আমাদের জন্য ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও বাণিজ্যে সুবিধা করতে পারবে বলে আমি মনে করি।’

বাংলাদেশে চীনের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে জানিয়ে ওই দেশের বাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সম্পর্ক বহুদিনের। ৪৫ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের লেনদেনে সুষম গতি বজায় রয়েছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহায়তা ক্রমাগত গভীর হচ্ছে। গত বছরের জুলাইতে বাংলাদেশকে ৯৭% শতাংশ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। ফলে চীনের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে চীনের পণ্য আমদানি ২৮ শতাংশ বেড়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে চীনের আমদানি আরও বাড়বে। দুই দেশের বাণিজ্যে ব্যালেন্সড তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়াতে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা ছাড়াও এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে আরও বেশি কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে লি জিমিং বলেন, ‘এ ‍মুহূর্তে চীনের অভ্যন্তরে কারোনা ভ্যাকসিনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সরবরাহও খুব সীমিত। এর মধ্যেও বন্ধুত্বের কারণে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। এরই মধ্যে সিনোফার্মের ৫ লাখ টিকা উপহার দিয়েছে। সিনোভ্যাকের উপহারের আরো ৬ লাখ টিকা আসার অপেক্ষায় রয়েছে।’

‘আমরা এখন চীনের ভ্যাকসিনের প্রকিউরমেন্টের বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উৎপাদনের আলোচনার অগ্রগতিও আশাব্যঞ্জক’, বলে উল্লেখ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

চীন বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে জানিয়ে লি জিমিং বলেন, ‘বিআরআই-এর অধীনে চীন বিভিন্ন উপায়ে যেমন অগ্রাধিকারযোগ্য ঋণ, বিনিয়োগ, প্রকল্প চুক্তি ও বিনামূল্যে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। শুধু এসব খাতই নয়, ফাইভ জি, হাই স্পিড রেল, মহাকাশ এবং ব্লু -ইকোনোতি, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য নির্মূল, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। সিল্করুট থেকে বর্তমান ডিপ্লোমেটিক সময়ে এ সম্পর্ক আরও বেড়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হওয়া আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন একটি মজবুত ভীতের ওপর রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চীনের এখনও বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর উভয় দেশ সফরে আলোচনা অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ২ বিলিয়ন বিনিয়োগ পেয়েছি। এ খাতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’

চীনে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর মাহবুব উজ জামান বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো। চীনের বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিশ্রতিও আমাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পকের। চীনের প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালে যে ‘দ্য বেল্ট অ্যান্ড গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ’ ঘোষণা করেছেন। এই ইনিশিয়েটিভ চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজি্যক সম্পর্কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন