বিজ্ঞাপন

সাবেক মন্ত্রীপুত্রকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ: কর্ণফুলীর আরেকজন গ্রেফতার

June 10, 2021 | 8:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সাবেকমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) এক মহাব্যবস্থাপকসহ এই মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকেল পৌনে ৫টায় নগরীর আকবর শাহ এলাকায় বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে চট্টগ্রামে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গ্রেফতার মো. দিদারুল আলম কেজিডিসিএল’র বিক্রয় বিভাগের দক্ষিণ জোনে টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত আছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী কাজী সানোয়ার হোসেন লাবলু সারাবাংলাকে জানান, গ্রেফতারের পর দিদারুল আলমকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদ থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরা হলেন- কেজিডিসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) মো. সারওয়ার হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান। দুপুরে আদালতে হাজিরের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:

বিজ্ঞাপন

সাবেক মন্ত্রীপুত্রকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ: কর্ণফুলীর আরেকজন গ্রেফতার

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেকমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থানান্তর ও নতুন সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে বুধবার চট্টগ্রামে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপ-সহকারি পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় গ্রেফতার তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়। বাকি দুই আসামি হলেন- কেজিডিসিএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপনন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও অবৈধভাবে সংযোগ পাওয়া গ্রাহক মুজিবুর রহমান। এদের মধ্যে মুজিবুর রহমান সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে।

মামলা এজাহারে বলা হয়েছে, নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা এম এ সালাম নামে এক গ্রাহকের (বতমানে মৃত) নামে বরাদ্দকৃত ১৮টি অব্যবহৃত দ্বৈত চুলার সংযোগ ছিল। এর থেকে ছয়টি দ্বৈত চুলা রেখে বাকি ১২টি দ্বৈত চুলা নগরীর চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকার গ্রাহক মুজিবুর রহমানের নামে স্থানান্তর করা হয়। মৃত সালামের স্ত্রী নুরজাহান সালামের নামে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে সেগুলো স্থানান্তর করে। মৃত সালাম এবং মুজিবুর রহমানের গ্রাহক সংকেত আলাদা। এ অবস্থায় সংযোগ স্থানান্তরের কোনো আইনগত বৈধতা নেই।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকলেও এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় আরও ১০টি সংযোগ দেওয়া হয় মুজিবুর রহমানের নামে। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ হিসেবে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গ্রাহক মুজিবুর রহমানের নামে মোট ২২টি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়।

এদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার মামলায় সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কেজিডিসিএল’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন