বিজ্ঞাপন

নেত্রীর চোখের ভাষা বুঝে আ.লীগকে সুসংগঠিত করাই আমাদের শপথ

June 23, 2021 | 12:29 am

এস এম কামাল হোসেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যতম সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাবাংলার সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন তিনি। সারাবাংলার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নৃপেন রায়। দুজনের কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭২ বছরে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন।

এস এম কামাল হোসেন: পাকিস্তানের দুঃশসান, তাদের উপনৈবেশিক শাসন-নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তখনকার মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হক সাহেবকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। ওই সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী শেখ মুজিবুকে যুগ্ম-সম্পাদক করা করা হয়। সে সময় গঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের নামে কৌশলগত কারণে ‘মুসলিম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু তখন জেলে, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, সেই সময় বঙ্গবন্ধু ঢাকা মেডিকেলের জেলখানায় থেকে পাকিস্তানের অন্যতম ভাষা বাংলাকে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেদিন জেলখানা থেকেই নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের জান্তারা সেদিন বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা মেডিকেলের জেল থেকে ফরিদপুরের জেলে স্থানান্তর করেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু আমরণ অনশন করেন। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। কারণ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। ১৯৫৩ সালের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবং ১৯৫৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সার্বিক চেষ্টায় সেদিন কাউন্সিলে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ হিসাবে আবার যাত্রা করে এবং বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা- এই শব্দ তিনটির একটি বলতে গেলেই বঙ্গবন্ধুর জীবনী আসে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এই তিনটা বাদ দিয়ে আরেকটির কথা ভাবা যায় না। আরেকটি ইতিহাস লেখা যায় না।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: তাহলে কি আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস?

এস এম কামাল হোসেন: হ্যাঁ, আওয়ামী লীগের ইতিহাস লিখতে গেলে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস লিখতে হবে, স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দিয়েছেন এবং ১৯৬৬ সালে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সব বিরোধীদলের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেদিন বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা পেশ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন করতে দেয়নি, বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বয়কট করে দেশে ফিরে আসেন। সেদিন এটাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানে এসে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সামনে ৬ দফার ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয় ৬ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য। ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়। বঙ্গবন্ধু এর আগেই ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে প্রথম ছয় দফার পক্ষে জনসভা করেন। ওইদিন তিনি ছয় দফার প্রয়োজনীতা ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এই চট্টগ্রামের জালালাবাদ পাহাড়ের উপরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বীর চট্টলার সন্তানেরা যে স্বাধীনতার পতাকাকে উড্ডীন করেছিলেন, আমি নতুন দিগন্তে নতুনদের জন্য মুক্তির সনদ দিলাম। বীর চট্টলাবাসী এটিকে বাস্তবায়ন করবে। এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু হলো। ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে তখনকার পূর্ব-পাকিস্তানে ঝটিকা সফর শুরু করলেন। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলো। ১৯৬৬ সালের ৮ মে বঙ্গন্ধুকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে একটানা তিন বছর তাকে কারাগারে রাখা হলো। পরে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিলেও জেলগেট থেকে গ্রেফতার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেন আইয়ুব খান। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেন আইয়ুব খান। আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার করেন এবং অস্ত্রের ভাষায় হুমকি দেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়, তখন বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ৬ দফার ভিত্তিতে ১১ দফা দেয়। এবং ১১ দফার ভিত্তিতে সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে উত্তাল সমুদ্রের মতো গর্জন শুরু হয়। এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে স্লোগান ওঠে, ‘আমার নেতা তোমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব’, ‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার-আমার ঠিকানা’, ‘ঢাকা না পিন্ডি, ঢাকা ঢাকা ঢাকা- এই স্লোগানে সেদিনকার পূর্ব পাকিস্তানের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আইয়ুব খান তখন বঙ্গবন্ধুকে ছাড়তে বাধ্য হন।

বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ২২ ফেব্রুয়ারি পৌঁছে দিয়ে আসেন ছাত্র-জনতা এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক জনসভায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সামনে সংগ্রাম পরিষদের নেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যৃবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, আজ থেকে এই দেশের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’। সত্তরের নির্বাচন এলো। বঙ্গবন্ধু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে ৬ দফার পক্ষে প্রচার চালান। নির্বাচনে বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমর্থন দেওয়ার মধ্য দিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে। সেদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়, বাঙালির একমাত্র প্রতিনিধি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং বাংলাদেশের একমাত্র অভিভাবকও তিনি। নির্বাচনে রায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু তার এক দফায় চলে যান। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। সেই বক্তব্যে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা ছিল। পাকিস্তান বাহিনীকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে তার দিক নির্দেশনা ছিল। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহর ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিলেন।

বিজ্ঞাপন

বাঙালির স্বপ্নপূরণে বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেছিলেন ধ্বংস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে। একটি বাড়ি পুড়িয়ে দিলে যেমন ছাই ছাড়া কিছু থাকে না, সেদিন বাংলাদেশের অবস্থা ছিল তেমন। এক কোটি লোক ভারত থেকে এসেছিল। দুই কোটি লোকের ঘর ছিল না। ত্রিশ লাখ শহীদ পরিবার, দুই লাখ মা-বোন সম্ভম হারিয়েছে। আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ব্যাংকে টাকা নাই; এমনি একটি ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়ানো বাংলাদেশকে গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন। তখন স্বাধীনতার সেই পরাজিত শক্তিরা ভিন্ন নামে এবং অতি ডান ও অতি বামপন্থীরা ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ঈদের জামাতে আওয়ামী লীগের এমপিকে গুলি করে হত্যা করা হয়, থানা লুট করা, পাটের গুদামে আগুন দেওয়া, রেললাইন উপড়ে ফেলা; এই সমস্ত অপকর্মের মধ্য দিয়ে, এই সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধু সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন সেই যাত্রাকে ব্যহত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেদিন এই অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দলকে নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল করেছিলেন। একটি জাতীয় দল করেছিলেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি।

অনেকে বলেন, সেদিন আওয়ামী লীগকে বিলুপ্তি করা হয়েছিল। না, আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু একটি জোট করেছিলেন সব দলকে নিয়ে। আজ যেমন ১৪ দলীয় জোট আছে। বঙ্গবন্ধু সেদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। এর মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে সেদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান আসলেন। আইয়ুব খান যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছিলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, ঠিক জিয়াউর রহমানও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তাই করলেন। আওয়ামী লীগের সাড়ে চার লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলো। চলতে থাকল গুম, নির্যাতন, হত্যা। বাংলাদেশ ফিরে গেল পাকিস্তানের ধারায়। সেই সময় আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই আওয়ামী লীগের হাল ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের দলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা করলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে তিনি বিশ্ব দরবারে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ বিশ্ব নেতৃত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। এর মূল কারণ হচ্ছে, আজকে বঙ্গবন্ধু তনয়া তার প্রিয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ক্ষমতায় এসেছেন। ফলে তিনি শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই বাংলাদেশকে আজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই বাংলাদেশকে আধুনিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সারাবাংলা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনাদের অঙ্গীকার ও শপথ কী?

এস এম কামাল হোসেন: ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে গর্ববোধ করি। আমার অহংকার আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। যার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। যার দিক-নির্দেশনায়, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে; সেই প্রাণপ্রিয় নেতা যিনি বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্ম দিয়েছেন, যার নাম বাংলাদেশ। আর তার তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই বাংলাদেশকে, আধুনিক, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী ও বিশ্ব দরবারে উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছেন। আজকের আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

সারাবাংলা: আপনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দিকগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

এস এম কামাল হোসেন: আমি মনে করি, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের দেশের কাতারে দাঁড়াবে। আর আমরা তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা যে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চান, সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শপথ নেবে। জননেত্রী যা চায়, তার চোখের ভাষা বুঝে আমাদের সেইভাবে ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করব। কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনার পথ আর অন্যদের পথ এক নয়। অনেকেই মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের কথা বলেন। মাহাথির মোহাম্মদের পথ আর জননেত্রী শেখ হাসিনার পথ কিন্তু এক নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হয়েছে, সামরিক শাসকদের মোকাবিলা করতে হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের খুনিদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এই অপশক্তিদের মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাকে মোকাবিলা করে সব ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আর এভাবেই আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। বিশ্ব নেতৃত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। যারা একদিন ষড়যন্ত্র করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য, বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য তলাবিহীন ঝুঁড়ি হিসেবে বাংলাদেশকে আখ্যায়িত করেছিলেন, সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বলছেন যে, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটাই হচ্ছে আমাদের গর্ব। এটাই হচ্ছে আমাদের অহংকার।

বঙ্গবন্ধু একজন শেখ হাসিনা রেখে গিয়েছিলেন। তার সৎ ও সাহসিক নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং দেশপ্রেম আছে বলেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা তার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছেন। আমরা মনে করি, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অহংকার ও গর্ব শেখ হাসিনা। আমাদের আদর্শের পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তার চোখের ভাষা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত কর্মী হওয়ার চেষ্টা করব।

সারাবাংলা: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

এস এম কামাল হোসেন: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন