বিজ্ঞাপন

মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ২ পুলিশ গ্রেফতার

June 23, 2021 | 1:11 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রহমত উল্লাহ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই দুই পুলিশ সদস্যকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২২ জুন) রাতে মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ সারাবাংলাকে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার ও বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন। তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শান্তিনগরের এক ফ্ল্যাটে গিয়ে এই দুই পুলিশ সদস্য ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি করেন। এ ঘটনায় নাজমুল হক সুমন নামে ভুক্তভোগী ব্যক্তি পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের দুই সদস্যের সঙ্গে সুমনের পরিচিত দুই ব্যক্তিও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পল্টন থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২০ জুন) পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সূত্রাপুর থানায় গিয়ে এসআই রহমত ও এএসআই রফিকুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের বিষয়টি গোপন রেখে পরদিন সোমবার (২১ জুন) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত সূত্রেও এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, সূত্রাপুর থানার এসআই রহমত ও এএসআই রফিকুল একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে শান্তিনগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুই পুলিশ সদস্য ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করে ‘সামারি করে’ চলে যান (টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন)।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সুমনের বাসা শান্তিনগরে। গত ১৪ জুন রাত ৯টার দিকে সাদা পোশাকে দুই ব্যক্তি তাদের বাসার দরজায় নক দেন। ভেতর থেকে সুমনের বাবা দরজা খুলে দিলে তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন। এরপর সুমনের রুমে যান। রুমের আলমারি, ওয়্যারড্রোব, বিছানা ওলট-পালট করেন। তাদের মধ্যে একজন পকেট থেকে ইয়াবার মতো দেখতে কিছু ট্যাবলেট সুমনের রুমের টেবিলের ওপরে রেখে সুমন ইয়াবার কারবার করেন— ওই দুই ব্যক্তি এমন দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।

এতে বলা হয়, এরপর ওই দু’জন গ্রেফতার এড়াতে সুমনকে টাকা দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন। সুমন উপায়ান্তর না দেখে বাসায় থাকা ৫৫ হাজার টাকা তাদের দেন। এসময় ডিবি পরিচয় দেওয়া একজন সুমনের মোবাইল ফোন হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তার পরিচিত ফরহাদকে তার বাসায় আসতে বলেন। ফরহাদ রাত ১১টার দিকে সুমনের বাসায় যান। বাসায় যাওয়ার পর একজন ফরহাদের হাতে হাতকড়া পরান। এসময় তারা বলেন, ফরহাদকে ছাড়াতে হলে তার মোটরসাইকেলটি দিতে হবে এবং পরে ১ লাখ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসতে হবে। পরিচিত বিবেচনায় টাকা দেওয়ার শর্তে তারা ফরহাদকে ছেড়ে দেন। যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে না জানাতে সতর্ক করেন এবং ফরহাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ফরহাদ ও শোভন গত ১৬ জুন সকাল ১১টায় সুমনের বাসায় যান। শোভন মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে আনার জন্য সুমনকে চাপ দেন। ফরহাদ এসময় ডিবি পরিচয় দেওয়া দুই ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং সুমনের সঙ্গে ফোন ধরিয়ে দিলে তারা সুমনকে জানান, ১ লাখ টাকা পেলে তারা মোটরসাইকেল দিয়ে দেবেন। পরে সুমন বুঝতে পারেন যে ফরহাদ, শোভন ও ডিবি পরিচয় দেওয়া দু’জন একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনায় সুমন পল্টন থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ প্রথমে ফরহাদ ও শোভনকে গ্রেফতার করে। তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে এ ঘটনায় এসআই রহমত ও এএসআই রফিকুলের জড়িত থাকার কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক সারাবাংলাকে বলেন, শান্তিনগরের সুমন নামে একজনের দায়ের করা মামলায় সূত্রাপুর থানার এসআই রহমত ও এএসআই রফিকুল ইসলাম এবং তাদের সোর্স হিসেবে পরিচিত ফরহাদ ও শোভনসহ মোট চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।

তবে সুমনের টেবিলে মাদক রেখে তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন