বিজ্ঞাপন

ছেলেকে হত্যায় পেশাদার খুনি ভাড়া করেন বাবা

June 25, 2021 | 7:13 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সুনামগঞ্জ: জেলার তাহিরপুর উপজেলায় পেশাদার খুনি ভাড়া করে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করিয়েছেন বাবা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) জেলা বিচারালয়ের তাহিরপুরের আমল গ্রহণকারী আদালতের বিচারক খালেদ মিয়া পুত্র খুনের দায়ে গ্রেফতারকৃত বাবাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার রাতে বাবা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, গত ২১ মে তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম নদীর পাড়ে মাহারাম গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (২৮) খুন হয়। খুনের ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের পিতা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশি আহসান হাবিব (২২), মো. সোলাইমান (২২) ও পাশের করইতলা গ্রামের তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়াকে (২৮) আসামি করে খুনের মামলা দায়ের করেন। এই তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় আসামিরা অসলেই খুনের সঙ্গে জড়িত কি না— তা নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে সুরুজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশ।

সুরুজ মিয়া পুলিশের কাছে স্বীকার করে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি জানান, জাহাঙ্গীর আলম নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি তার পরিবারের লোকজনকে অত্যাচার করতেন। জাহাঙ্গীরের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে তার পিতা মোহাম্মদ আলী পেশাদার অপরাধী সুরুজ মিয়া ও সেকান্দার আলীকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে। সুরুজ মিয়া এর আগে দুই খুনের মামলায় ১৭ বছর জেলে ছিল এবং সেকান্দার আলীও ডাকাতির মামলায় জেল খাটে।

বিজ্ঞাপন

খুনের ঘটনার আগে সুরুজ মিয়া ৫০০ টাকা দেবার কথা বলে জাহাঙ্গীরকে মাহারাম নদীর পাড়ে ডেকে আনে। পরে সুরুজ মিয়া মোবাইলে পুত্র জাহাঙ্গীরকে খুনের কথা জানায় বাবা মোহাম্মদ আলীকে। গ্রেফতারকৃত সুরুজ মিয়া আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের সকল তথ্য জানায়। পুলিশ অপর খুনি সেকান্দার আলীকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তিনিও আদালতের কাছে ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করা পেশাদার অপরাধী দিয়ে পুত্র জাহাঙ্গীর আলমকে খুন করান পিতা মোহাম্মদ আলী। এরপর পুত্রকে হত্যার দায়ে প্রতিবেশি মাহারাম গ্রামের আহসান হাবিব ও মো সোলাইমানকে এবং পাশের করইতলা গ্রামের তৌফিকুলকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, পুত্রকে খুন করানোর দায়ে বাবা মোহাম্মদ আলী এবং অন্য দুই পেশাদার খুনিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীকে গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হবে বলে জানান তিনি।

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন