Sarabangla 4th-anniversary Sarabangla 4th-anniversary
বিজ্ঞাপন

বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি: ফখরুল

June 26, 2021 | 12:15 am

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বীরশ্রষ্ঠ এর দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই- বিএনপি সবসময় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, রণাঙ্গনে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের সংগঠিত দল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিল, যুদ্ধ করেছিল সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য বিএনপি সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের সেই সংগ্রাম ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সফল হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর মতোই মানুষের সমস্ত অধিকার খর্ব করছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, তাকে ধবংস করে দিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ভুলণ্ঠিত করে দিয়ে এক দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা মানুষের ওপর অত্যাচার-জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার সত্য ইতিহাস বিকৃত করে তারা তাদের তৈরি করা ইতিহাস জাতির সামনে, পরবর্তী প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসছে। বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যেসব অনুষ্ঠান করা হচ্ছে এটির লক্ষ্যই হচ্ছে প্রকৃত ইতিহাস সামনে তু্লে নিয়ে আসা। এটা কারও প্রতি বিরাগ নয়, কারো ছোট করা নয়, বরং যার যে সম্মান সেই সম্মান তাদেরকে দেওয়ার জন্য। সত্যিকার অর্থেই যারা মুক্তি যুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে করেছিলেন আজকে তারা সবাই উপেক্ষিত।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এদের (আওয়ামী লীগ) ঘটনাবলি দেখলে মনে হয় যে, এদেশে মুক্তিযুদ্ধ কেউ করে নাই একমাত্র একজন ব্যক্তি ছাড়া। অথচ তিনি সেই দিন দেশেই ছিলেন না, পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। আওয়ামী লীগের এই সরকার আজকে একবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর নাম উচ্চারণ করেন না, তারা সেই সময়ে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের অবদানের কথা একবারের জন্য বলেন না, লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার তারা উচ্চারণ করেন না। আর জিয়াউর রহমানকে তো তারা খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।’

স্বাধীনতা সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহবায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবর পাকিস্তানে ছিল। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়ে তার দেহাবশেষ ঢাকায় ফিরিয়ে এনে শহীদ ‍বুদ্ধিজীবী কবরাস্থানে পুনরায় সমাহিত করা হয়। এই কাজটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সফলভাবে করতে পেরেছিলেন বলে আজকে বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে দেশের মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরাস্থানে গিয়ে সন্মান জানাতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কী পরিমাণ শ্রদ্ধাশীল। এই কারণে শ্রদ্ধাশীল যে, এই দল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের প্রতিষ্ঠিত দল।’

স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন