বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নারী শিক্ষার নিশান লালমাটিয়া মহিলা কলেজ

মার্চ ২৯, ২০১৮ | ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: ভাবতেই ভাল লাগে যে, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ দেশের শিক্ষা পরিবারে তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে, এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। আর শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলছিলেন, লালমাটিয়া মহিলা কলেজটি রাজধানীর নারী শিক্ষার অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারী শিক্ষার নিশান হিসেবে এই কলেজ কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিব দুজনই বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) উপস্থিত হয়েছিলেন রাজধানীর লালমাটিয়াস্থ এই কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণীতে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি এক সময় টাকার অভাবে চলছিল না তার এখন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা সঞ্চয়। ভাবতেই ভাল লাগে যে, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ দেশের শিক্ষা পরিবারে তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

দিনটিতে লালমাটিয়া মহিলা কলেজটি সেজেছিলো বর্ণিল সাজে। সেখানে কলেজের শিক্ষার্থীদের নান ডিসপ্লে ছিলো মনোমুগ্ধকর। এছাড়া নাচে গানে তারা মাতিয়ে তুলেছিলো গোটা ক্যাম্পাস। অতিথিদের সামনে সেসব উপস্থপনা পেয়েছে সকলের প্রশংসা।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর লালমাটিয়ায় ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অগ্রগতি বেশ সাড়া ফেলেছে শিক্ষাভুবনে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পরিচালনা পর্ষদের যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এ অগ্রগতি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যে কলেজটি দেশের নারী শিক্ষার নতুন নিশান হয়ে উড়বে শিক্ষাকাশে।

কলেজটিতে স্নাতক পর্যায়ে ১৭টি ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১৮টি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া বিবিএ প্রোফেশনাল, প্রোফেশনাল ডিপ্লোমা ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিসহ মোট ৮ হাজার ৬শ শিক্ষার্থী। বিপরীতে ১৫৩ জন শিক্ষক ও ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। মোট ১ হাজার ৮০ জনের মত শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে তিনটি হোস্টেলে। যারা খুব সামান্য খরচে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।

মাত্র চার একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটিতে অবকাঠামোগত সুবিধা প্রায় পূর্ণ। গত ক’বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সংক্রান্ত সম্পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কথা বলে জানা যায়, এ কলেজে পড়ালেখায় খরচ খুব বেশি নয়। তারওপর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এখানে রয়েছে বিনামূল্য ও আংশিকমূল্যে পড়ালেখার সুযোগ। এবার থেকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় যারা বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম হবে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় হবে তারা অর্ধেক মূল্যে পড়ালেখা করতে পারবে।

কলেজটির সাম্প্রতিক অর্জনে প্রশংসা শোনা গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের কাছ থেকেও। বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, লালমাটিয়া মহিলা কলেজটি রাজধানীর নারী শিক্ষার অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯৯১ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এ কলেজটি গেল ক’বছর আগে বেশ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু গত ৬ বছর আগে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও নতুন অধ্যক্ষ কাজ শুরুর পর থেকে এটি তার পুরনো গৌরব ধীরে ধীরে ফিরে পেতে শুরু করেছে। এখন এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন র‌্যাংকিংয়ে সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে চোখে পড়েছে নতুনের ছোঁয়া। কলেজের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবন সবখানে রঙের ছোঁয়া লেগেছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে নানান ফুলের সমারোহে চৈত্রের কাঠফাটা রোদও যেন হার মেনেছে। হাজারো শিক্ষার্থীর সুশৃঙ্খল উপস্থিতি আর শিক্ষকদের সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপণায় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ উপভোগ্য।

এ সময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসটি এক কথায় নিখুঁত সৌন্দর্যের রেপ্লিকা। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মশাল দৌড়, শরীর চর্চা প্রদর্শনী, ডিসপ্লের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

ওয়ালিউর রহমান বলেন, লালমাটিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ নিঃসন্দেহে ভালো সময় পার করছে। সুন্দর পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ কলেজেরই সাবেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ জোবেরা রহমান লিনু।

তিনি বলেন, আমি যখন এ কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে বের হই তখন আমি ২১ বছরের একজন তরুণী। আজ আমি ৫৪ বছরের একজন বৃদ্ধা। তবে আমি নিজেকে বৃদ্ধা বলতে চাই না। কেননা আমি মানসিকতায় এখনও তরুণীই আছি। মানসিকতায় তরুণ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা যারা এ কলেজে পড়ছ তাদের একথা মনে রাখতে হবে যে, কেবল একজন নারীই নয়, একজন সত্যিকারের মানুষ হওয়ার জন্যই শিক্ষার প্রয়োজন। এ সময় তিনি তার সময়ের কয়েকজন শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করেও তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. রফিকুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্য দেন। এসময় তিনি তার সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সফরে থাকায় অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি।

সারাবাংলা/এমএস/একে

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন