বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ায় প্রস্তুত ১ লাখ কোরবানির পশু, চিন্তিত খামারিরা

July 4, 2021 | 8:18 am

সোহেল রানা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কুষ্টিয়া: করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশেই অস্থিরতা বিরাজ করছে, চলছে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ। তবু আসন্ন কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ার খামারিরা। এরপরও ঈদ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশু বিক্রি এবং লাভ-লোকসান নিয়ে চিন্তিত হচ্ছেন খামারিরা।

বিজ্ঞাপন

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এই জেলায় যে পরিমাণ গরু ও ছাগল বিক্রির উপযোগী হয়েছে তা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে থাকে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত আরজ আলী বিশ্বাসের ছেলে আমিরুল মেম্বার গতবছর থেকে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন বিশাল আকারের একটি গরু। গায়ের রঙ কালো হওয়ায় ভালোবেসে গরুটির নাম রেখেছেন ‘ব্ল্যাক কাউ’। পারিবারিক আদলে শুধু গমের ছাল ও বিচালি খাইয়ে গরুকে মোটাতাজা করেছেন কোরবানির ঈদে বিক্রি করে লাভের আশায়।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে সারা দেশেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গরুর সবরকম খাদ্যের দাম। এ অবস্থায় গরুটি বাজারে নিতে পারবেন কিনা বা নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা এবং সঠিক দাম পাবেন কিনা এসব নানা বিষয় নিয়ে শঙ্কিত তিনি।

গরু পালন ও বেচাকেনা কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য। জেলায় এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে দু’একটি গরু নেই। এখানকার খামারি ও কৃষকরা কোরবানির ঈদের পরে কমদামে ছোট গরু কিনে লালনপালন শুরু করে। অল্প অল্প করে টাকা বিনিয়োগ করে এসব খামারে ও বাড়িতে কোরবানি ঈদে বিক্রি ও লাভের আশায় পারিবারিক আদলে গরুকে মোটাতাজা করে থাকেন তারা।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়া সদরের, হাটশ হরিপুরের খামারি জাকিরুল ইসলাম ও খাজানগরের খামারি ওমর ফারুক জানান, কোরবানির পশু বাজারে তোলার সময় ঘনিয়ে এলেও মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা। আসছে কোরবানির জন্য দেশে যথেষ্ট গরু প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খামারিদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে ভারত থেকে গরু আমদানি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির জন্য দেশি গরু হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার গরুর রয়েছে বিশেষ চাহিদা। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রায় এক লাখ গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার চাহিদা পূরণ করে প্রায় ৭০ শতাংশ গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাবে। এছাড়াও এবার ৬০ হাজার ছাগল ও কিছু মহিষও কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোনোরকম ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই মাঠের ঘাস ও স্বাভাবিক খাবারে এসব গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আট হাজার খামারিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

খামারিদের গরু ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির করার জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামারিরা এবার কোরবানির গরুর ন্যায্য দাম পাবেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন