বিজ্ঞাপন

‘দুরবিন দিয়ে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’

July 4, 2021 | 3:40 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় বিএনপিকে এখন ফটোসেশনেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদেশে দুরবিন দিয়ে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করনোর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ও প্রথম ঢেউয়ের সময়কার মতো মানুষের পাশে আছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৪জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও ত্রাণ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাসপাতালে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নতমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আমাদের প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মী আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের মাঝে প্রায় ২ কোটি পরিবারের কাছে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।’

বিজ্ঞাপন

করোনা সংকটে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল এইভাবে জনগণের পাশে থাকেনি দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও আছে এবং সেই এনজিওগুলো দশজনকে কোনো কিছু দিয়ে সেটির ছবি তুলে সুন্দর ব্রুশিয়ার বানায়। সেটি আবার বিদেশে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে পাঠায়। তাদের কেউ কেউ টকশোতে গিয়ে বড় বড় কথা বলে। তাদের কেউ কেউ প্রতিদিন সরকারের সমালোচনামুখর থাকে। কিন্তু এই সমস্ত সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনরা করোনার আগে এবং করোনার সময়ও সরকারের সমালোচনায় যারা সবসময় ব্যস্ত থাকে, তাদের কেউ কেউ বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করে তাদের কাউকে করোনার সময় এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তাদের সমালোচনার মুখ কিন্তু বন্ধ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিসহ তার মিত্ররা প্রথম দফায় করোনার ঢেউয়ের সময় তাদেরকে কিছু ফটোসেশন করতে দেখা গেছে। এখন ফটোসেশনেও তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদেশে দুরবিন দিয়ে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করনোর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ও প্রথম ঢেউয়ের সময়কার মতো মানুষের পাশে আছে। মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করার পাশাপাশি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে। এতে করে হাজার হাজার নেতাকর্মী আমাদের করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের প্রায় ১২৫ জন সংসদ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, অনেক সংসদ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এটি কোনো দলের পক্ষে হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ বিএনপির যে সমস্ত নেতাকর্মী কথা বলেন, তারা এখন কথা বলছে শুধু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর কথা নিয়েই শুধু তারা কথা বলছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না।

বিজ্ঞাপন

তাই আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণসহ মানবিক সহায়তার কার্যক্রম থেকে অন্যান্য দলগুলোকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য সামগ্রী থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী যেখানেই প্রয়োজন সেখানেই পাঠানো হচ্ছে। সংকটে কে কোন দলের কে কোন মতের এটা কোনোদিন দেখিনি, দেখবও না। যিনি দুস্থ থাকে সহায়তা করা হবে। যিনি অসুস্থ থাকে সহায়তা করা হবে এবং যার সহায়তার প্রয়োজন তাকে করা হবে। সে কোন দলের কোন মতের সেটা দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা কখনো দেখিওনি, ভবিষ্যতেও দেখব না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনার শুরু থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে আছে, এখনো আছি।’

বিজ্ঞাপন

মানুষের জন্য মানুষের পাশে যে কোনো সময় যে কোনো মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করবে বলে অবহিত করেন তিনি। নাছিম বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতকর্মী জীবন দিয়েছে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা নাই, এ কথা আমরা বলছি না। সমস্যা আছে। সেই সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের সরকার কাজ করছে। আমরা দল হিসাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি।’

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে আছে, মানুষের পাশে থাকবে। এটা আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। এতে আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কেবল বক্ততা বিবৃতির ভিতর দিয়ে মানুষকে খেপিয়ে তোলার অপরাজনীতি করি না। আমরা মানুষের দুর্দশা নিয়ে রাজনীতি করি না। আমরা মিথ্যাচার করি না। আমরা অহেতুক বিভ্রান্তির পথে হতাশার পথে আমাদের দেশের মানুষকে নিপতিত না করে হতাশার সময় মানুষকে উৎসাহিত করি, উজ্জীবিত করি এবং সাহস দেই।’

মানুষকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সকলে মিলে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এই করোনা নিয়ে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ আছে বলে মনে করি না। যারা করোনার অতিমারি নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, তারা অপরাজনীতি করে, তারা অপশক্তি। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে আহ্বান জানান নাছিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেলা সুলতানা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ উপ-কমিটির সদস্যরা।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন