বিজ্ঞাপন

৪০০ আইসিইউসহ করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৪০০ বেড

July 12, 2021 | 11:00 am

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় দেশে কোভিড-১৯ চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও এক হাজার ৪০০ বেড। এর মাঝে এক হাজার বেড নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক মাসের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে এক হাজার বেডের ফিল্ড হাসপাতাল। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাসপাতালে আরও চারশ বেড যুক্ত হতে যাচ্ছে কোভিড-১৯ চিকিৎসায়।

বিজ্ঞাপন

দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে যেভাবে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে সেটা কিন্তু ভীতিকর। যদি সংক্রমণ শনাক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায় তখন কী চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে? কারণ হাসপাতাল বা হাসপাতালের বেড তো আর রাবার না যে সেটা টান দিলাম আর লম্বা হয়ে গেল বা টানলে বাড়ানো যাবে। সেটারও একটা সক্ষমতা আছে। ধারণ ক্ষমতার বাইরে তো আর সে সেবা দিতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন প্রায় ১১ হাজার লোক নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন এবং পাশাপাশি প্রায় দুইশ মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। এজন্য আমরা খুবই দুঃখিত। কিন্তু এগুলো কেন হচ্ছে? সংক্রমণ কেন বাড়ছে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে কিন্তু সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস কী বন্ধ করা সম্ভব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের? মানুষজন বিধিনিষেধ কীভাবে পালন করা হচ্ছে তা দেখতে বের হচ্ছে, অনেকেই মাস্ক পরছেন না। তাছাড়াও ফেরিতে আমরা দেখেছি কিভাবে ভিড় করে সবাই বাড়ি যাচ্ছে। এভাবে তো সংক্রমণ আরও বাড়বে। আর তখন আসলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য। আমাদের অনেক সমালোচনা হয় সব বিষয়ে। কিন্তু তাও আমাদের সবাই কাজ করে যায়, চিকিৎসা সেবাটা সবার জন্য নিশ্চিত করে যাই। আমাদের নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতাও বেড়েছে। এটা আরও বাড়ানো হবে। হাসপাতালের বেড বেড়েছে, হাই ফ্লো নজল ক্যানোলা থেকে শুরু করে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতিকরণেও কিন্তু আমাদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কথা কেউ বলে না। আরও অনেক বিষয়েই কিন্তু আমাদের কাজ চলছে যাতে আমরা দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে পারি, তাদের সেবা দিতে পারি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যা বৃদ্ধি করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আমরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিল্ডিং দেখেছি, এসব বিল্ডিংয়ে করোনা হাসপাতাল স্থাপন করা যায় কি না। এরইমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে এক হাজার বেডের হাসপাতাল স্থাপন করবো করোনা চিকিৎসার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যেই বিএসএমএমইউতে এক হাজার বেডের হাসপাতাল চালু হবে। এখানে থাকবে ৪০০ আইসিইউ বেড ও ৪০০ এইচডিইউ বেড। এখানে সাধারণ বেড সংখ্যা হবে ২০০টি। এছাড়াও এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনও থাকবে। ইতোমধ্যেই এই হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা মহাখালীতে এর আগে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলাম মাত্র ২৪ দিনে। আশা করছি বিএসএমএমইউতেও এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালেও বাড়ছে ৪০০টি বেড।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা সারাবাংলাকে বলেন, ‘রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সবাই। কিন্তু রোগীর সংখ্যা যদি আরও বাড়তে থাকে তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে। কিন্তু তাও তো থেমে থাকা যাবে না তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে আমরা আরও চারশ বেড বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

এদিকে হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফিল্ড হাসপাতাল বানিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিলেও এখানে জনবল নিশ্চিত করাটাকে এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেশে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার সাধারণ শয্যা রয়েছে। সেটিকে প্রতিনিয়তই বাড়ানোরর চেষ্টা করছি। আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ শয্যা এখন রোগীতে পূর্ণ। তাই নতুন করে শয্যা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘অন্য জেলা থেকে অনেক রোগী ঢাকায় চলে আসছে। অন্যান্য জেলায় যেমন খুলনা, যশোর, রাজশাহী, রংপুরসহ প্রায় সব বিভাগ এবং জেলাগুলোতে নতুন করে আরও কিছু হাসপাতাল নেওয়ার আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে আমরা বেডের সংখ্যা বাড়াতে পারি। শুধু বেড বাড়ালে চলবে না, আমাদের জনবলও লাগবে। সে জন্য খুব শিগগিরই আরও প্রায় আট-দশ হাজার লোক স্বাস্থ্যসেবায় আসবে এবং তাদের চিকিৎসা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেড বাড়ানোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা তো পুরো দেশকে হাসপাতাল বানাতে পারবো না। আমাদের সেটা বুঝতে হবে। বেড বাড়ালেও আবার জনবল কোথা থেকে পাবো। সেই চিন্তা করেও আমরা গত কয়েকদিনে চার হাজার নতুন চিকিৎসক ও চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এই করোনাকালীন সময়ে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার নতুন লোক কাজ করছে করোনার সেবাতেই।’

তবে এবারও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বেড বাড়ানোর পাশাপাশি চার হাজার নতুন চিকিৎসক ও চার হাজার নার্স খুব দ্রুতই নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সারাবাংলা/এসবি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন