বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

July 15, 2021 | 9:20 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। একইসঙ্গে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও গুজবের ফাঁদে পা না দিয়ে চট্টগ্রামের তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ে এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন তারা। কর্মসূচিতে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে রাজনৈতিক, সাামজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধী নই। কিন্তু সিআরবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করে কাউকে এখানে হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না। সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া বাতিলের এই দাবি শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়। এই দাবি চট্টগ্রামের আপামর মানুষের। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় এই দাবি বিবেচনা করবেন, চট্টগ্রামবাসী এই আশা করে।’

বিজ্ঞাপন

আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সিআরবির পাহাড় সংলগ্ন এলাকার যে সৌন্দর্য সেটাকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যতদিন পর্যন্ত হাসপাতাল নির্মাণের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হবে, ততদিন চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

হাসপাতালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

বিজ্ঞাপন

‘আমরা যারা ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলন করেছিলাম, গণ আন্দোলন করেছিলাম, আমাদের মধ্যে অনেকেই এখন বেঁচে নেই। কিন্তু আমরা যারা এখনও জীবিত আছি, আমরা কখনোই সিআরবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করে হাসপাতাল বানাতে দেব না। তরুণ সমাজের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থেকে এ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে’— বলেন রানা দাশগুপ্ত।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ২৪ ধারা অনুযায়ী বৃটিশ আমলে নির্মিত রেলওয়ের ভবনগুলোকে ঐতিহ্য ভবন ঘোষণা করে পুরো এলাকাকে সংরক্ষিত করা হয়েছে। এখানে শিরিষতলাকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গন গড়ে উঠেছে। এখানে কোনোভাবেই হাসপাতাল হতে দেওয়া যায় না। জনগণের টাকায় ধনীদের জন্য চট্টগ্রামে আর হাসপাতালের দরকার নেই। চট্টগ্রামের ধনীদের হাসপাতাল আছে। বিত্তবানরা এর চেয়েও বেশি অসুস্থ হলে ভারতে, ব্যাংককে যেতে পারেন। এখন আমাদের দরকার গরীব মানুষের জন্য হাসপাতাল। সিআরবির বাইরে চট্টগ্রামে একটি গরীবের জন্য হাসপাতাল হোক।’

বিজ্ঞাপন

‘ডিসি হিলে একটি মুক্তমঞ্চ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে আমরা ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছি। সেই ডিসি হিলে এখন কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা সিআরবিকে রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাব, সঙ্গে ডিসি হিল পুনরুদ্ধারের আন্দোলনও করব’— বলেন আবুল মোমেন।

হাসপাতালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

বিজ্ঞাপন

খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায়। অর্থাৎ জনগণের টাকায় হাসপাতাল হবে। জনগণের মতামত ছাড়া জনগণের টাকায় কিভাবে হাসপাতাল হয়? আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না। হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আমরণ অনশনসহ সর্বাত্মক আন্দোলন হবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল হবেই বলে রেলমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার বক্তব্যে চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। অবিলম্বে রেলমন্ত্রীকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, ‘নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, হাসপাতাল হবে গোয়ালপাড়ায়, সিআরবিতে নয়। গোয়ালপাড়া কি রেলওয়ের বাপের সম্পত্তি? গোয়ালপাড়ার জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি। রেলওয়ের তো সেখানে হাসপাতাল করার এখতিয়ার নেই। এখানে হাসপাতাল হলে শুধু সিআরবির পরিবেশ নষ্ট হবে তা-ই নয়, হাসপাতালের বর্জ্যের কারণে এনায়েত বাজার, গোয়ালপাড়া, লাভ লেইন, জামালখানসহ আশপাশের এলাকার জনজীবনও হুমকির মুখে পড়বে। সুতরাং আমরা আন্দোলন করতে আসিনি, সুস্থভাবে বাঁচার দাবি জানাতে এসেছি।’

নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম আয়োজিত কর্মসূচি পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী প্রণব চৌধুরী। কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন- মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের মহাসচিব মো. ইউনূস, পরিবেশবিদ ইদ্রিস আলী, জেলা সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নুরুচ্ছফা ভূঁইয়া, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, সাংবাদিক নাজিমউদ্দিন শ্যামল, আসিফ সিরাজ ও ঋত্বিক নয়ন, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অ্যানি সেন, আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি আলীউর রহমান।

কর্মসূচি চলাকালে রানা দাশগুপ্ত ও আবুল মোমেন সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে সিআরবিতে হাসপাতালের জন্য প্রস্তাবিত স্থানে গিয়ে গাছের চারা রোপণ করেন।

হাসপাতালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়ন

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সিআরবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জেলা যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়ন।

যুব ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অ্যানি সেন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী, যুবনেতা আবদুল হালিম, জাবেদ চৌধুরী, রাশিদুল সামির, বিপ্লব দাশ, জুয়েল বড়ুয়া, অভিজিৎ বড়ুয়া, ছাত্রনেতা মাহবুবা জাহান রুমি এবং চবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ ধর।

সারাবাংল/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন