বিজ্ঞাপন

পুরুষের তুলনায় নারীর কর্মসংস্থান কমবে: আইএলও

July 21, 2021 | 11:53 am

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে সারাবিশ্বই অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নানারকম কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধারের সময় নারীরা পুরুষের তুলনায় কম কাজে ফিরে যেতে পারবেন বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব শ্রম সংস্থা আইএলও। নতুন ঘোষিত এক সংক্ষিপ্ত নীতিমালায় দেখা গেছে মহামারিজনিত সময়ে নারীরাই সবচেয়ে বেশি চাকরি হারিয়েছেন যার অধিকাংশই অযৌক্তিক। আর আয়জনিত তাদের এই ক্ষতি ভবিষত্যেও বজায় থাকবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

নতুন এই সংক্ষিপ্ত নীতিমালায় দেখা গেছে ২০১৯ এর তুলনায় ২০২১ সালে ১৩ মিলিয়ন নারীর কর্মসংস্থান কমে যাবে। আর অন্যদিকে পুরুষদের কর্মসংস্থান ২০১৯ এর পর্যায়ে ফিরে আসবে।

সারা বিশ্বে কর্মক্ষম নারীর মাত্র ৪৩.২ শতাংশ এবছর কাজের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে কর্মক্ষম পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৬৮.৬ শতাংশ। যদিও ২০২১ সালে নারীদের জন্য প্রত্যাশিত চাকরির প্রবৃদ্ধি পুরুষের তুলনায় বেশি কিন্তু তা প্রাক-মহামারি পর্যায়ে নারীর অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট না।

বিজ্ঞাপন

‘নারীর কর্ম অধিকার ও কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রকল্পের কেন্দ্রে তাদের কর্মসংস্থান’ শিরোনামের ভবিষ্যতের শ্রম বৈষম্য ঘোচানোর আইএলও’র এই সংক্ষিপ্ত ব্রিফে বলা হয়েছে, মহামারি পূর্ববর্তী অবস্থায় নারীরা যেসব সেক্টরে কাজ করত সেসব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের জন্য কাজে বহাল হওয়া কঠিন হবে। আবাসন, খাদ্য পরিষেবা ও উৎপাদন খাতে তাদের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি যা মহামারির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৫৪ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি ৪০ লাখ নারী চাকরি হারিয়েছেন যার ফলে তাদের কর্মসংস্থান কমেছে ৪.২ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষরা ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি অর্থাৎ ৩ শতাংশ পুরুষ চাকরি হারিয়েছেন।
তবে বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষ একইভাবে প্রভাবিত হয়েছে তা না। আমেরিকান নারীরা সবচেয়ে বেশি চাকরি হারিয়েছেন। ৯.৪ শতাংশ নারীদের কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এসময়ে। এরপরেই আছে আরব অঞ্চল যেখানে ২০১৯ থেকে ২০ সালের মধ্যে ৪.১ শতাংশ হারে নারীরা কাজ হারিয়েছেন। আর এই সময়ের মধ্যে আরব অঞ্চলের পুরুষদের কাজ হারানোর হার ১.৮ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে মহামারির মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নারীদের কাজ হারানোর হার ৩.৮ শতাংশ যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২.৯ শতাংশ। ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ায় নারীর কর্মসংস্থান পুরুষদের তুলনায় যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে যা যথাক্রমে ২.৫ শতাংশ এবং ১.৯ শতাংশ।

আফ্রিকায় পুরুষদের কাজ হারানোর হার ০.১ শতাংশের বিপরীতা নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ১.৯ শতাংশ।
মহামারি চলাকালীন সময়ে কিছু দেশ নারী-বান্ধব কাজ করেছে। তারা যেমন নারীদের কাজ হারাতে দেয় নি আবার হারালেও দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

যেমন, চিলি ও কম্বোডিয়ায় নতুন করে কাজে যোগদানকারী নারীদের জন্য অধিক ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। কলাম্বিয়া ও সেনেগালে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন করে সমর্থন দিয়েছে অথবা বাড়িয়েছে। এছাড়াও মেক্সিকো আর কেনিয়ায় সরকারি চাকরিতে নারীর জন্য আলাদা কোটা সৃষ্টি করা হয়েছে।

আইএলও’র সংক্ষিপ্তসারে ভবিষ্যতকে আরও বৈষম্যহীন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যার মূলেই রয়েছে জেন্ডার সমতার ধারণা প্রতিষ্ঠিতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতকে পুনরুদ্ধার করা। এর জন্য তারা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

বিজ্ঞাপন

১. সেবামূলক কাজে বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে যেহেতু অধিক সংখ্যক নারী স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক কর্মকান্ড এবং শিক্ষাখাতের সঙ্গে জড়িত।

২. জেন্ডার গ্যাপ কমিয়ে নারীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাপি নারীর জন্য টেকসই ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

৩. নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য কমাতে হবে

৪. কর্মস্থলে সহিংসতা ও নির্যাতন দমনে পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে মহামারিকালে গৃহ সহিংসতা ও চাকরিস্থলে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে যা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে যাতে মহামারির পরেও নারীরা কাজে অংশ নিতে পারে।

৫. সিদ্ধান্তগ্রহণকারী বোর্ড, সামাজিক সংলাপ ও সামাজিক অংশিদারভিত্তিক কাজে নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সারাবাংলা/আরএফ/একেএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন