বিজ্ঞাপন

চীনে রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত, ১২ মৃত্যু

July 21, 2021 | 11:39 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের হেনান প্রদেশে অবিরাম বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঝাং ঝৌসহ বিস্তৃত এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। এছাড়াও, লাখো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাত পর্যন্ত সেখানে ৬১৭ দশমিক এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চীনের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই বৃষ্টিপাত হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৬৪০ দশমিক আট মিলিমিটারের সমান।

এদিকে, হুয়াং হি নদীর তীরবর্তী এক কোটি ২০ লাখ বাসিন্দার শহর ঝাং ঝৌতে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও, প্রায় এক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।

এ বছর চীনের মধ্যাঞ্চলে সপ্রভিত বর্ষকাল দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। এতে হুয়াং হি নদীর অববাহিকার অনেকগুলো নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে হেনান প্রদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ঝাং ঝৌয়ের পশ্চিমে লুওইয়াং শহরের ইহিথান বাঁধে পানি বিপৎসীমার ২০ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধটি যে কোনো সময় ধসে যেতে পারে বলে, ঝাং ঝৌয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ সদর দফতর জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, কিছু নদীর পানি পর্যবেক্ষণ সীমা অতিক্রম করেছে, কিছু বাঁধ ভেঙে গেছে, এতে বহু হতাহত ও সম্পদহানি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে রেলসেবা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বন্যা প্রতিরোধের চেষ্টা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, মঙ্গলবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, পাতাল রেলের ভেতরে যাত্রীরা বুক সমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন আর ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো উথালপাথাল পুকুরে পরিণত হয়েছে। বুধবার ঝাং ঝৌয়ের পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে ছিল, ব্যাপক জলবদ্ধতার মধ্যে স্কুল ও হাসপাতালগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে।

অপরদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আগামী তিন দিন পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন