বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার করায় নিষিদ্ধ আলজেরিয়ান জুডোকো

July 25, 2021 | 3:22 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

টোকিও অলিম্পিক ২০২০ এর ৭৩ কেজি ওজন শ্রেণীর প্রথম রাউন্ড থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিলেন আলজেরিয়ান জুডোকো ফেথি নুরিন। প্রথম রাউন্ডে জিততে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ হতেন ইসরায়েলের তোহার বুটবল। তবে এর আগেই আলজেরিয়ান এক টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের একজন অ্যাথলেটের বিপক্ষে খেলা তার জন্য অসম্ভব। জুডোর ৭৩ কেজির শ্রেণিতে বিশ্বের ৯ নম্বর তারকা নুরিন।

বিজ্ঞাপন

আর এরপরেই নুরিন এবং তাঁর কোচ আমার বেনিখলেফকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে অলিম্পিক কমিটি। কেবল তাই নয়, তাদেরকে নিষিদ্ধও করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশন (আইজেএফ) জানিয়েছে, নুরিন এবং বেনিখলেফকে তারা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। এর পরপরই আলজেরিয়ান অলিম্পিক কমিটি তাদের অ্যাক্রিডিটেশন প্রত্যাহার করে এবং জানায়, শীঘ্রই তাদেরকে দেশের ফ্লাইট ধরিয়ে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে আইজেএফ জানিয়েছে, আইজেএফের একটি অসাম্প্রদায়িক নীতিমালা আছে। পারস্পরিক সংহতিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। জুডোতে এমন একটি খেলা যেখানে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরনকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। আমরা কোন ধরণের বৈষম্য সহ্য করবো না। নুরিনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জুড়ো ফেডারেশনের নিয়ম বহির্ভূত।

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার করায় নিষিদ্ধ আলজেরিয়ান জুডোকো

অলিম্পিকের জন্য দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে এতদূর আসার পরেও শেষ পর্যন্ত বেশিদূর যাওয়া হলো না এই অ্যাথলেটের। তবে তাতেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় নুরিন। নিজের সিদ্ধান্তর ব্যাপারে নুরিন বলেন, 'আমরা অলিম্পিকে খেলতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুটি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে বড়। ওখানে যা ঘটছে এরপর ইসরায়েলের একজন অ্যাথলেটের বিপক্ষে খেলা আমার পক্ষে অসম্ভব।'

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে তাঁর কোচ আমের বেন ইয়াকলিফ বলেছেন, ‘ড্রয়ের ভাগ্যটা ভালো হয়নি আমাদের। একজন ইসরায়েলি প্রতিপক্ষ পেয়েছি এবং এ কারণে আমাদের সরে যেতে হলো। আমরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।’

তার এমন সিদ্ধান্তে সুদানের মোহামেদ আবদালরসুল এখন সরাসরি চলে গেলেন পরের রাউন্ডে। সেখানে তার প্রতিপক্ষ ইসরায়েলের বুটবুল।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে টোকিওতে ওয়ার্ল্ড জুডো চ্যাম্পিয়নশিপেও ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানান নুরিন। তিনি ছাড়াও ইরানের কয়েকজন জুডোকা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে রাজি হননি। ২০১৬ সালে এমন কাজ করেছিলেন মিশরের জুডোকা এল সাহাবি।

কেবল নুরিন একাই নয় এর আগে ইসরায়েলের অ্যাথলেটদের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইরানকে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশন। কারণ, এক ইরানি জুডোকা বলেছিলেন, পরের রাউন্ডে যেন ইসরায়েলি জুডোকার সঙ্গে খেলতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে ম্যাচ হারতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত জুডোতে নিষিদ্ধ ইরান দল। ইরান ছাড়া মিসরও ইসরায়েলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আগে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন