বিজ্ঞাপন

তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলন দমনে তালেবানের সহায়তা চাইলো চীন

July 28, 2021 | 3:59 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবানের ৯ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল চীন সফর করেছে। সফরকালে তারা চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন ই’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলনকে চীনের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি দমনে তালেবানের সহায়তা চান।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ জুলাই) তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম টুইটারে এ বৈঠকের তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেছে।

টুইটারে তালেবান মুখপাত্র নাইম বলেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজনীতি, অর্থনীতি ও উভয় দেশের সুরক্ষা এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে’।

বিজ্ঞাপন

তালেবানের ওই মুখপাত্র আরও জানান, বেইজিংয়ের তরফ থেকে তালেবানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সফরে তালেবান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির উপপ্রধান নেতা মোল্লা বারদার আখুন্দ।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমে এ বৈঠকের তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, উত্তর চীনের শহর তিয়ানজিনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান ই ওই তালেবান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিজ্ঞাপন

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালেবান প্রতিনিধি দলের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন ই বলেছেন, তালেবানরা আফগানিস্তানের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন ও দেশটির পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

এছাড়া ওয়েন ই তালেবান প্রতিনিধি দলের বৈঠকে আশা প্রকাশ করেন যে, চীনের জাতীয় সুরক্ষার হুমকি হিসেবে উদ্ভূত পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলনকে দমন করায় ভূমিকা রাখবে তালেবান। চীন জানিয়েছে, এ উগ্রবাদী ইসলামিক গ্রুপটি পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং প্রদেশেও সক্রিয় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তালেবান প্রতিনিধি দল এ ব্যাপারে চীনকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেবে না তারা।

তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন বলেছে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না তারা, তবে সমস্যা সমাধান করে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে বেইজিং প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

Chinese State Councilor and Foreign Minister Wang Yi (R) meeting with Mullah Abdul Ghani Baradar, political chief of Afghanistan's Taliban, in Tianjin [Li Ran / Xinhua/AFP]

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের সীমান্ত যোগাযোগ রয়েছে। চীন সীমান্তে একমাত্র আফগান শহর ‘ওয়াখান’ এ মাসের শুরুতে দখল করে নিয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান।

আফগানিস্তান থেকে টানা ২০ বছর পর ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপর দেশটির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে তালেবান। প্রতিদিন দেশের নানা অঞ্চল দখল করে নিচ্ছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তালেবানের রাজনৈতিক সমঝোতা করিয়ে দেওয়া চেষ্টা করছে ইরান, চীন, পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও তালেবানের সঙ্গে এক সমঝোতার ভিত্তিতে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত ছিল, আফগানিস্তানে বিদেশি কোনো জঙ্গি সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না তালেবান। তবে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ার শুরু থেকেই সেদেশে সাধারণ নাগরিকদের উপর, বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের উপর সহিংস হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। এসব কারণে তালেবান আদৌ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না— সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন