বিজ্ঞাপন

‘ভিকারুননিসায় একজন সন্ত্রাসী মহিলাকে অধ্যক্ষ করা হয়েছে’

July 28, 2021 | 10:47 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একজন ‘সন্ত্রাসী মহিলা’কে অধ্যক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ধবংস করে দিয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন সন্ত্রাসী দলবাজ মহিলাকে অধ্যক্ষ করা হয়েছে। আমরা দেখলাম যে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদেরকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলো তারা দুনীর্তি করছে, নিয়োগ বাণিজ্য করছে। এভাবে তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংস করে ফেলেছে এবং এই করোনার অজুহাতে তারা শিক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

করোনার ভ্যাকসিন নিয়েও সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে, এই করোনাকালে তারা কিভাবে উদাসীনতা, অযোগ্যতা, ব্যর্থতা দিয়ে জনগণের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে। তারা এতো বেশি প্রতারণা করে, এতো মিথ্যা কথা বলে, এতো ভাওতাবাজি করে যে, ভ্যাকসিন সংগ্রহ না করেই এখন বলছে, ই্উনিয়ন পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেবে। এগুলো জাতিকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছু নয়।’

কোভিডকে পুঁজি করে ক্ষমতাসীনরা লুটপাট করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জীবনকে এলোমেলো করে দিচ্ছে বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে, সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকার সেই কোভিডকে পুঁজি করে জনগণকে লুট করছে, রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করছে।,

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘যে কষ্টার্জিত অর্থ ট্যাক্স হিসেবে মানুষ দেয়, আমাদের প্রবাসীরা বিদেশে গিয়ে যে রেমিট্যান্স পাঠায়, আমাদের শ্রমিকেরা গার্মেন্টেসে কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থ তারা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমার কথা নয়। পত্রপত্রিকা স্পষ্টভাবে লিখছে- এখন একটা লুটের রাজত্ব চলছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আওয়ামী লীগ আসলে প্রকৃতিগতভাবে চরিত্রগতভাবে লুটেরা শ্রেণির প্রতিনিধি।

বর্তমান সংকট উত্তরণে আন্দোলনের বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। সে জন্য আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করে আমাদেরকে আন্দোলনে যেতে হবে এবং এই ভয়াবহ যে দানব আমাদের বুকের ওপর চেপে বসে আছে সেই দানবকে সরিয়ে দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, এই দানব ছোটখাটো দানব নয়, এটা একটা ভয়াবহ দানব। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রয়েছে, সামাজ্যবাদ এবং আধিপত্যবাদের চক্রান্ত রয়েছে। সে কারণে আমাদের অত্যন্ত শক্তি নিয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এদেরকে সরাতে হবে। মানুষকে জাগাতে হবে, তাদেরকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে হবে। মানুষকে সেই সুদিনের গান শোনাতে হবে যেন তারা জেগে ওঠে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, একেএম ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপেলো, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম, প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিনী বিথীকা বিনতে হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, এসএম আসাদুজ্জামান নেসার, আনু মোহাম্মদ শামীম, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/এজেড/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন