বিজ্ঞাপন

এখন রোমান-দিয়াদের পরিচর্যার পালা

July 30, 2021 | 4:45 pm

শামিম হোসেন শিশির, নিউজরুম এডিটর

'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...' মৃদু স্বরে বেজে উঠবে। পতাকা স্ট্যান্ডে বাতাসে দোল খাবে লাল-সবুজের গর্বের পতাকা। বিজয়মঞ্চে সটান দাঁড়িয়ে থাকবেন কোনো বাংলাদেশি, গলায় ঝুলবে স্বর্ণের পদক। অলিম্পিকের মঞ্চে এমন কোনো মুহূর্ত আবেগী করবে হয়তো কয়েক কোটি বাংলাদেশিকেও! প্রশ্ন হচ্ছে সেই মুহূর্তটা আসবে কবে? সেই ১৯৮৪ সাল থেকে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত পদকের ধারেকাছেও যাওয়া হয়নি কোনো বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদের। অভিজ্ঞতা অর্জন আর উদ্বোধনী মার্চপোস্টে নিজের দেশের পতাকার প্রদর্শনিতেই থেমে আছে বাংলাদেশের অলিম্পিক অধ্যায়। অথচ এদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এতো জনসংখ্যার দেশ থেকে একজন অলিম্পিক জয়ী ক্রীড়াবিদ উঠে আসতে পারছেন না? একজন শুটার, আর্চার, দৌড়বিদ, সাঁতারু বা অন্য কোনো খেলার খেলোয়াড়? আক্ষেপগুলো তখন বেড়ে যায় যখন জানা যায়, ৬২ হাজার জনসংখ্যার দেশ বারমুডা অলিম্পিকে সোনা জয়ের উল্লাসে ভাসে। বাংলাদেশের চেয়ে কম সামর্থ্যের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দেশগুলো নিয়মিত অলিম্পিক শিরোপা জিতে। এই আক্ষেপ ঘুচবে কবে?

বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে পরিচিত করার বড় মাধ্যম ক্রিকেট। একমাত্র মাধ্যমও বলা চলে। কারণ ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাধুলায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতিই তেমন নেই। দক্ষিণ এশীয় ক্রীড়া আসর এসএ গেমসে একটা সোনার পদক জিততেই ঘাম ছুটে যায় বাংলাদেশের। এমন অবস্থা থেকে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্নকে দিবাস্বপ্নই বলা চলে! তবে দূরের স্বপ্ন হলেও স্বপ্ন দেখার রাস্তা কিন্তু একটা তৈরি হয়েছে। এবারের অলিম্পিকে বাংলাদেশের দুই আর্চার রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকীর পারফরম্যান্স স্বপ্ন দেখার সাহসটা সঞ্চয় করিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোমান সানা

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সম্মান বয়ে এনেছেন ২৬ বছর বয়সী রোমান। নীলফামারি থেকে উঠে আসা দিয়া সিদ্দিকীও আলো কেড়েছেন সম্প্রতি সময়ে। দুজন জুটি বেঁধে সবচেয়ে বড় কাজটি করলেন হয়তো এবারের অলিম্পিকে। পদকের কাছাকাছি যেতে পারেননি অবশ্য, তবে দুজন দেখিয়ে দিয়েছেন অলিম্পিকের মঞ্চে বাংলাদেশেরও অর্জনের অনেককিছু আছে। সম্ভবনা আছে পদক জয়ের।

বিজ্ঞাপন

ছেলেদের রিকার্ভ-একক ইভেন্টে ইংল্যান্ডের প্রতিযোগীকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে গিয়েছিলেন রোমান সানা। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারলেও কানাডার প্রতিযোগির সঙ্গে লড়াইয়ে রোমান বুঝিয়ে দিয়েছেন ম্যাচটা জিততে পারত যে কেউই। ভাগ্যের ছোয়া না পাওয়াতে হারতে হয়েছে ৬-৪ সেট পয়েন্টে। মেয়েদের রিকার্ভ-এককে দিয়া সিদ্দিকী হেরেছেন বেলারুশের প্রতিযোগীর কাছে। ট্রাইব্রেকার পর্যন্ত গড়িয়ে দিয়াও বুঝিয়েছেন ম্যাচটা জয়ের সুযোগ ছিল তারও। দুজনের সম্মিলিত লড়াই আরও আলোচনা ছড়িয়েছে।

প্রথম রাউন্ডেই দক্ষিণ আফ্রিকার মুখে পড়াটা ছিল দুর্ভাগ্যের। দক্ষিণ আফ্রিকা আর্চারি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দেশ। তাদের সঙ্গে লড়ে বাদ পড়লেও রোমান-দিয়া সেদিন জানান দিয়েছেন, তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়। প্রথম সেটে কিছুটা অপ্রস্তুত রোমান-দিয়া হেরেছিলেন ৩৮-৩০ পয়েন্টের ব্যবধানে। তবে পরের দুই সেটে জয়ের ভালো সম্ভবনা তৈরি করেছিলেন। শেষ হাসিটা অবশ্য হাসা হয়নি। দ্বিতীয় সেট হারতে হয়েছে ৩৫-৩৩ পয়েন্টের ব্যবধানে, তৃতীয় সেট ৩৯-৩৮। শীর্ষ দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর তাদের নিয়ে স্বপ্ন তো দেখাই যায়।

বিজ্ঞাপন

এখন রোমান-দিয়াদের পরিচর্যার পালা

এর মধ্যেই রোমান সানা বলেছেন, 'আমি ২০২৪ অলিম্পিকেও খেলতে চাই। আমার মূল লক্ষ্য ২০২৮ অলিম্পিকে সোনা জয়। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব।' দিয়ার বয়স মাত্র ১৭। শিখে পরিপক্ক হওয়ার বড় সুযোগ তার সামনে। এই বয়সেই অলিম্পিকের মতো টুর্নামেন্ট খেলাটাও নিশ্চয় শেখাবে তাকে। রোমান বলেই দিয়েছেন, দেশকে পদকে জেতাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এখন সময় তাদের উপযুক্ত পরিচর্যা করা। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, অনুপ্রেরণা দেওয়া, তাদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া। এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে তো? এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

অলিম্পিকের মতো ক্রীড়াযজ্ঞে বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিদরা সর্বোচ্চটা দিয়ে পদকের জন্য লড়াই করেন। সেই লড়াইয়ে জিতে একটি পদক অর্জন বিশাল প্রজেক্ট, বড় পরিকল্পনা নিশ্চয়। তবে যে দেশে কল্পনার পদ্মা বহুমুখী সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল এখন বাস্তবে রূপান্তরিত, যে দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি ছাড়িয়েছে, যে দেশ দিনকে দিন বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে চলেছে, যে দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসাধ্যসাধন করেছে সে দেশে এমন পরিকল্পনা কেন নয়!

সারাবাংলা/এসএইচএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন