বিজ্ঞাপন

পাটুরিয়া টু ঢাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা

July 31, 2021 | 1:22 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

মানিকগঞ্জ: শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কর্মজীবী নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। এই সুযোগে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকরা এসব যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। পণ্যবাহী ট্রাকেও তিনগুণ ভাড়ায় যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, পাটুরিয়া ৩ নম্বর পন্টুনে একটি ফেরি নোঙ্গর করে। ফেরিটিতে মাত্র তিনটি পণ্যবোঝাই ট্রাক। কিন্তু যাত্রী ছিল কয়েকশ’। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার কথা থাকলেও নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই।

ফরিদপুর থেকে আসা যাত্রী মুনসের আলী বলেন, অনেক কষ্ট করে বিভিন্নভাবে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছি। এক প্রকার যুদ্ধ করে ফেরিতে উঠছি। এখন পাটুরিয়া ঘাটে এসে পৌঁছেছি। ঘাটে এসে নতুন বিপদে পড়েছি। একশত টাকার ভাড়া হাজার টাকা নিচ্ছে। কিছুই করার নাই, যেহেতু যেতেই হবে। নয়তো চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিজ্ঞাপন

যশোরের হাসনা বেগম নামের এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, আমি যাব সাভারের ইপিজেড এলাকায়। গতরাতে অফিসের অ্যাডমিন থেকে ফোন দিয়েছে অফিস করতে। সঠিক সময়ে অফিসে যেতে না পারলে চাকরি চলে যাবে।

পাটুরিয়া ঘাটে প্রাইভেটকারের চালক সুজন মিয়া বলেন, ঘাটে তেমন একটা গাড়ি নাই। প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে ভাড়াটা একটু বেশি নিচ্ছি। ভাড়া বেশি না নিলে লোকসান হয়ে যাবে। রাস্তায় বিভিন্ন জায়গা ম্যানেজ করে আমাদের চলতে হয়। পাটুরিয়া থেকে গাবতলী কত টাকা ভাড়া নিচ্ছেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যেখানেই নামুক না কেন প্রতি যাত্রীর জন্য ভাড়া এক হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কাযার্লয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের জন্য আটটি ফেরি নিয়োজিত আছে। আগামীকাল থেকে যেহেতু পোশাক কারখানা খোলা সেজন্য যাত্রীরা এক প্রকার জোর করেই ফেরিতে উঠছে।

এর আগে শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ছয়টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিন সব ধরনের শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় সরকার। সরকারের এ নির্দেশনায় রফতানিমুখী শিল্পকারখানা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কার কথা জানায় সরকারকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে শিল্প-কল-কারখানা চালুর বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন