বিজ্ঞাপন

শহীদ মিলন দিবস সোমবার

November 26, 2017 | 4:49 pm

সারাবাংলা প্রতিবেদক

বিজ্ঞাপন

২৭ নভেম্বর সোমবার শহীদ ডাক্তার মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন সরকারের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে নিহত হন ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন।

এই শোকাবহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২৭ নভেম্বর শহীদ মিলন দিবস পালন করে আসছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

বিজ্ঞাপন

শহীদ মিলন দিবস উপলক্ষে এবারও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে   শামসুল আলম খান মিলনের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক বাণী দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ডাক্তার শহীদ শামসুল আলম খান মিলন আত্মাহুতি দিয়েছেন। অবশেষে স্বৈরশাসকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরে পায় জনগণ।

শেখ হাসিনা তার বাণীতে নব্বই-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পেশাজীবী নেতা ডাক্তার মিলনকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন পালন করেছিলেন অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা। তার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। স্বৈরাচার হটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল শহীদ ডাক্তার মিলনের মূল লক্ষ্য। বুকের রক্ত ঢেলে তিনি এ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেছিলেন।

শামসুল আলম খান মিলন ১৯৫৭ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে  সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৫ সালে নটরডেম কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। এর পর চিকিৎসক হ্ওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন (ব্যাচ কে-৩৪)। ১৯৮৩ সালে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ও চিকিৎসা পেশায় যোগ দেন। মৃত্যুকালে শামসুল আলম খান মিলন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত  ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব।

বিজ্ঞাপন

সেদিন যা ঘটেছিল : ঘটনার দিন দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ আন্দোলন চলছিল। সেদিন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে রিকশাযোগে পিজি হাসপাতালে (র্বতমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যাচ্ছিলেন ডাক্তার মিলন। এ সময় একই রিকশায় তার সহযাত্রী ছিলেন ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি এলাকা অতিক্রমকালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর গুলি চালায়। গুলিতে তাৎক্ষণিকভাবেই তার মৃত্যু হয়।

সারাবাংলা/এজেড/আইজেকে/ নভেম্বর ২৬, ২০১৭

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন