বিজ্ঞাপন

জীবন রক্ষায় রক্তযোদ্ধা বাপ্পির ছুটে চলা

August 2, 2021 | 4:35 pm

নিফাত সুলতানা মৃধা, তিতুমীর কলেজ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একজন মুমূর্ষ রোগীর জীবন বেঁচে যাবে এক ব্যাগ রক্তে, সঙ্গে একটি পরিবারের সকলের হাসিমুখ ও দোয়া। এই আত্মতৃপ্তি থেকেই জীবন রক্ষার জন্য রক্তের সন্ধানে কারও কল পেলেই অস্থির হয়ে পড়েন মো. মঈন সরকার বাপ্পি। একের পর এক কল করতে থাকেন ডোনারদের। রক্তের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তার এই অস্থিরতা থামে না। তার এই অস্থিরতা মানবপ্রেমের, সামাজিক দায়বদ্ধতার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। কারণ রক্তের অভাবে যেন কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবন থমকে না দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

বাপ্পি রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের সমাজকর্মের শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে রংপুরে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সংস্পর্শে আসেন। বাঁধন কারমাইকেল কলেজ ইউনিটে কাজ করতেন তার স্কুলের বড় ভাই মোশারফ হোসেন বোরহান। সেখানে বাঁধনের মাধ্যমেই প্রথমবার ব্লাড টেস্ট করেন বাপ্পি। পরবর্তীতে বাঁধন কর্মীদের আন্তরিকতা ভালোবাসা দেখে রক্ত নিয়ে কাজ করায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

২০১৭ সালে তিনি ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পান। ভর্তির পর ক্যাম্পাসে এসে দ্বিতীয় দিনেই যুক্ত হয়ে যান বাঁধন, সরকারি তিতুমীর কলেজ ইউনিটে। এরপর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই সংগঠনের হয়ে। কাজের সুবাধে তিনি বাঁধন, ঢাকা সিটি জোনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধির দায়িত্ব পেয়েছেন। সর্বশেষ তিনি বাঁধন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ২০২১-২২ এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ার পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) ১৯৯৭ সালে ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মোট ৫৩টি জেলায় ৭৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছে। আমার চাওয়া সারাদেশে বাঁধনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ুক, রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাঁধনকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করতে যাই।

রক্তের প্রয়োজনে নিজ জেলার মানুষের জন্যও কাজ করেন বাপ্পি। তিনি জানান, এই কাজে তাকে পরিবার সবসময় সাপোর্ট দিয়েছে। এমনকি কারও রক্তের প্রয়োজন হলে তার বাবাই সন্তানের ফোন নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। এটিকে পরিবারের বড় সমর্থন হিসেবে দেখছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এই মহৎ কাজে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাপ্পি বলেন, এই কাজে যুক্ত হওয়ার প্রথম ও প্রধান কারণ আমি প্রত্যক্ষভাবে অসহায় মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতে পারছি। আত্মমানবতার সেবায় নিজেকে সরাসরি যুক্ত করতে পারি। একজন ব্যক্তি চার মাস পর পর বছরে তিন বার রক্ত দিতে পারেন। এভাবে আমরা যদি রক্ত দেই তবে আমরা শুধু এক একটি মানুষকে বাঁচাতে পারব তাই নয়, এক একটি পরিবারের মুখেও হাসি ফোটাতে পারি। একজন ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারার যে আত্মতৃপ্তি, তা বলে বোঝানো যাবে না।

অন্যদের রক্তদানে উৎসাহিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যদের উৎসাহিত করার জন্য আমরা প্রথমে রক্তদানের উপকারিতাগুলো রক্তদাতাদের সামনে তুলে ধরি। একজন মানুষের রক্তের প্রয়োজন, তারা রক্ত পাচ্ছে না- এ অবস্থায় মানুষের কষ্টগুলো তাদের সামনে যখন তুলে ধরি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, একজন সচেতন ছাত্র হিসেবে অবশ্যই তারা রক্তদানে উৎসাহিত হয়। অনেকেই নিয়মিত রক্তদান করে এবং অনেকেই আর্তমানবতার সেবায় সরাসরি কাজ করার জন্য আমাদের প্লাটফর্মে যুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

রক্ত নিয়ে কাজ করার অনুভূতি জানতে চাইলে বাপ্পি বলেন, রক্ত নিয়ে কাজ করার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। একজন মা, একজন বাবা অথবা একজন সন্তান যখন হাসপাতালের বিছানায় রক্তের জন্য হাহাকার করছে, পরিবারের সদস্যরা খুঁজে হয়রান কিন্তু রক্তদাতা পাওয়া যাচ্ছে না- এ অবস্থায় রক্তদাতা খুঁজে দিয়ে তাদের সাহায্য যারা করে তারাই শুধু এর আনন্দটা অনূভুতিটা বুঝতে পারবে।

সারাবাংলা/এনএসএম/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন