বিজ্ঞাপন

গার্মেন্টস মালিকরা কথার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন: তথ্যমন্ত্রী

August 2, 2021 | 5:15 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে কারখানা খোলা হয়েছে। তবে কোনো কোনো গার্মেন্টস মালিক কথার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। যারা শ্রমিকদের কাছে কাজে যোগ দেওয়ার বার্তা পাঠিয়েছেন, সেই বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে আরেকটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল।’

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই দাবি ছিল ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলে দেওয়ার। কিন্তু সরকার নানা দিক বিবেচনা করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন দিয়েছে। সরকার এই ঘোষণা দেয়নি যে, এটি কখনও শিথিল করা হবে না। আগে লকডাউন দেওয়ার পর সপ্তাহে সপ্তাহে বৃদ্ধি করা হচ্ছিল। এবার দুই সপ্তাহ একসঙ্গে লকডাউন দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকরা যেটা বলেছিলেন তারা ঢাকার আশেপাশে যারা শ্রমিকরা আছে তাদেরকে নিয়েই আপাতত শুরু করবেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো গার্মেন্টস মালিক সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কে ফোন করা হয়েছে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য, অর্থাৎ যারা ঢাকার বাইরে চলে গেছেন তাদের আসতে বলা হয়েছে। গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ঢাকার আশেপাশে বা ঢাকায় অবস্থানরত যে সমস্ত শ্রমিকরা আছে তাদেরকে দিয়েই আপাতত শুরু করবে, এখানেই বিভ্রান্তিটা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের সুবিধার্থে বা গার্মেন্টসে যারা কাজ করেন তাদের সুবিধার্থে গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল কয়েক ঘণ্টার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এক্ষেত্রে গার্মেন্টস মালিকদের আরেকটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল। সবাইকে আমি দোষ দেব না, কিন্তু যারা শ্রমিকদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন কাজে যোগদান করতেই হবে সেই বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে একটু ভুল ছিল। তারা যেটি বলেছিলেন ঢাকার আশেপাশে বা ঢাকাত শ্রমিকদের নিয়ে চালু করবে সেটি হলে এভাবে দৌড়ঝাঁপ করে শ্রমিকদের আসতে হতো না।’

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন এবং জীবিকা দুটোর মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হয়। ভারতের অবস্থা দেখেন লকডাউন দিয়ে মাসের পর মাস বন্ধ থাকার পর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১০ ছিল গত অর্থবছরে। আমাদের দেশে জীবন এবং জীবিকার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। সেটি আমরা সফলভাবেই করেছি। আমাদের অর্থনীতি অনেকটাই গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল। রফতানি আয়ের ৮০ ভাগ বা তার বেশি গার্মেন্টস থেকেই আসে। গার্মেন্টসটা অত্যন্ত সেনসিটিভ খাত, সেখানে যদি এক সপ্তাহ ডেলিভারি দিতে না পারে বা এক সপ্তাহ দেরি হয় তাহলে কার্যাদেশ বন্ধ হয়ে যায়, দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, সেই বিষয়টা বিষয়টাও দেখতে হবে।’

সারাবাংলা/জেআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন