বিজ্ঞাপন

‘ইতিহাসের ভিলেনকে জোর করে নায়ক বানানো যায় না’

August 3, 2021 | 3:30 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইতিহাসের ভিলেনকে জোর করে নায়ক বানানো যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যাব কেন? সময়ের ধারাবাহিকতায় চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসই যার যার স্থান নির্ধারণ করে দেয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকালে তিনি তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আজ আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় নাকি আওয়ামী লীগ জড়িত এবং সরকার নাকি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চাইছে? বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্য অনেকটা ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনার মতো।’

বিজ্ঞাপন

আগস্ট মাস এলেই বিএনপি রক্তাক্ত অতীতের অন্তর্জ্বালা নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব কারা তা এখন জাতির কাছে স্পষ্ট। কারা হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনি মোশতাক কাকে সেনাপ্রধান করেছিল, জিয়ার ভূমিকা কি ছিল, খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কার কাছে রিপোর্ট করেছিল, তখন জিয়ার মন্তব্য কী ছিল- এসব ঐতিহাসিক সত্য বিএনপি নেতারা নতুন করে বাকপটুতায় ধামাচাপা দেওয়ার নির্লজ্জ ব্যর্থ চেষ্টা করছে। যা করে কোনো লাভ নেই।’

বিএনপির ‘শিবের গীত’ জনগণের কাছে এখন পরিষ্কার বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কারা নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে সহযোগিতা করেছিল? কারা পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিল? দূতাবাসে কে চাকরি দিয়েছিল?- এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তা না হলে জিয়াউর রহমানকে ধোয়া তুলসি পাতা বানানোর অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।’

বিজ্ঞাপন

রক্তমূল্যে অর্জিত স্বাধীন দেশের সংবিধানে খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটির বিধান ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমেকে সংযোজন করেছিলেন? জিয়াউর রহমান যদি এতই নিষ্পাপ তাহলে বিচার বন্ধ করলেন কেন?- এমন প্রশ্নও বিএনপি মহাসচিবের প্রতি রাখেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের, ‘এতসব প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই বিএনপি দিতে পারবে না। বিএনপি কথায় কথায় মানবাধিকারের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। অথচ সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার একুশ বছর পর্যন্ত আমরা কোনো বিচারই চাইতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত জিয়াউর রহমান কেড়ে নিয়েছিলেন। আর এখন মিষ্টি মিষ্টি কথায় নতুন ইতিহাসের প্রলাপ বকছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা আর কারফিউ গণতন্ত্র চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় থেকে প্রহসনের নির্বাচন করেছিলেন। হ্যাঁ- না ভোটের মাধ্যমে এদেশের নির্বাচনের ইতিহাসকে কলংকিত করেছেন জিয়াউর রহমান।’

এদেশের রাজনীতিতে খুন এবং হত্যাকাণ্ডের চর্চা বিএনপির নিজস্ব পেটেন্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা এখনও হত্যার রাজনীতি ছাড়তে পারেনি। তার প্রমাণ ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট।’

বিজ্ঞাপন

বিএনপি রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হাওয়া ভবন থেকে গ্রেনেড হামলার নির্দেশনা ও মনিটরিং করে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন! তাহলে জজ মিয়া নাটক কেন সাজিয়েছিলেন? কেন হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করেছিলেন?’

ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নসিহত না করে আগে নিজেরা পরিশুদ্ধ হোন। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে জনমানুষের রাজনীতি করে। মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝেই শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন। বিএনপি নিজেদের দুর্গন্ধময় ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যিকার অর্থে এদেশে সুস্থধারার রাজনীতি করতে চায়।’

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন