বিজ্ঞাপন

নতুন কমিটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে: ফখরুল

August 3, 2021 | 3:44 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩) সকালে উত্তরার বাসায় ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই দুইটি কমিটি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দুটির প্রতি সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এরা সবাই পরীক্ষিত নেতা।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ঢাকা দক্ষিণে সালাম-মজনু, উত্তরে আমান-আমিনুল

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এটা (নতুন কমিটি গঠন) নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে যে, এই কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যে অগণতান্ত্রিক সরকার আমাদের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট করে দিচ্ছে, সেখানে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, ভূমিকা রাখবেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য।’

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে- অত্যন্ত সক্রিয়, সচল এবং কার্য্করী এই আহ্বায়ক কমিটি অতি দ্রুত দলকে সুসংগঠিত করবে এবং একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কার্য্করী কমিটি গঠন করবে।’

কবে নাগাদ মহানগরের কাউন্সিল হতে পারে?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে সেই গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল করবে। সেটা তিন মাস।’

বিজ্ঞাপন

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি বিশাল রাজনৈতিক দল। সেই দলের যখন একটি কমিটি করা হয় তখন ছোট-খাটো সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা দেখছি যে, একবারে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই এই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে একটা কার্য্করী কমিটি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

নতুন কমিটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে: ফখরুল

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বায়ক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সেজন্য সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আমরা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ একযোগে কাজ করব। যদি প্রয়োজন হয় ১৯৯০ সালের মতো আরেক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই নব্য স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক, অবৈধ, মিডনাইটের সরকারকে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করব।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নতুন আহবায়ক দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমরা যাতে এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। সে ব্যাপারে মহাসচিব থেকে শুরু করে দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সহযোগিতা চাই। আমরা উত্তর-দক্ষিণ মহানগর একসঙ্গে মিলেই কাজ করার চেষ্টা করব, যাতে কোথাও কোনো গ্যাপ সৃষ্টি না হয়, কোনো ভুল-বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।’

মহানগরে অতীতে নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়াত মীর শওকত আলী, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, মির্জা আব্বাস, হাবিবউন নবী খান সোহেল, এমএ কাইয়ুম, সালাহ্উদ্দিন আহমেদ, কাজী আবুল বাশার, প্রয়াত আহসানুল্লাহ হাসান প্রমুখের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছেন। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থাটাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব, যাতে একটা কাউন্সিল করতে পারি।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরের রফিকুল আলম মজনু, আমীনুল হক, আবদুল আলীম নকি, তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, মহানগর উত্তর যুব দলের এসএম জাহাঙ্গীর, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন