শনিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

আইসিটি পণ্য রফতানিতে দেশে বায়িং হাউজ গড়ে তোলা হবে

এপ্রিল ১, ২০১৮ | ৮:০০ অপরাহ্ণ

ফারহানা এ রহমান । ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রাপ্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফল নারী উদ্যোক্তা। ২০১৫ সালের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সেরা নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান তিনি। ব্যবসার বাইরে গিয়েও সাংগঠনিকভাবেও কাজ করছেন তিনি। তথ্য প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) তিনিই প্রথম নারী পরিচালক। সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটিতেও ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। বেসিসের পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদে পেয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি নির্বাচন ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সারাবাংলার সঙ্গে তার দীর্ঘ কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এমদাদুল হক তুহিন, ছবি তুলেছেন স্টাফ ফটো করেসপন্ডেন্ট সুমিত আহমেদ

সারাবাংলা: শুরু থেকেই শোনা যাক গল্পটা, তথ্য প্রযুক্তি খাতে ব্যবসার চিন্তা কেন করলেন?

বিজ্ঞাপন

ফারাহানা: (কিছুটা হেসে) আসলে  অন্য সবার মতো আমারও ইচ্ছা ছিল নিজ বিষয়ে কাজ করব। আমি একটা গবেষণা সংস্থায় চাকরি করতাম, আমার স্বামী সরকারি চাকরি করতেন, আমাদের সন্তান হলো। সব কিছু চলছিল ভালোই। বাচ্চাটার বয়স যখন দেড় বছর হলো, জানা গেল তার মধ্যে অটিজম আছে...

সারাবাংলা: তারপর?

ফারহানা: তারাপর যা হয় আর কি, স্বামীর বদলির চাকরি, কর্মস্থল অন্য শহরে। কেউ মুখে না বললেও সবার চাওয়া আমি যেন চাকরি ছেড়ে বাচ্চার দেখভাল করি। এতেও সকলের অনেক প্রশ্ন, পরামর্শ। এদিকে আমি অটিজম সম্পর্কে কিছুই জানি না। এ সময়টায় আমি অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে আইটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম। চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।

সারাবাংলা: চাকরি ছেড়েই কি শুরু করলেন এ ব্যবসা?

ফারহানা: বিষয়টা এমন নয় , চাকরি ছেড়ে বাসায় বসে খুব খারাপ লাগত। ছাত্র জীবন থেকেই আমি অনেক কিছু করেছি। হঠাৎ এ কাজ ছাড়া আমাকে খুব কষ্ট দিত। কিছু করার জন্য খুব চেষ্টা করতাম, কিন্তু কী করব তা আর বুঝে উঠতে পারতাম না। এ সময় আমার জীবনে টার্নিং পয়েন্টটা আসে।

সারাবাংলা: ব্যবসা শুরুর সুযোগ?

ফারহানা: এটাকে ঠিক ব্যবসা শুরুর সুযোগ বলা যায় না, বলতে পারেন একটা কাজের সুযোগ। সেসময় আউট সোর্সিং বিষয়টি নতুন নতুন খুব শোনা যাচ্ছে। আমি আইটি নিয়ে পড়তে গিয়েই এ বিষয়ে শুনেছি। আমার কিছু বন্ধু ছিল যারা দেশের বাইরে থাকেন। তারাই প্রথমে আমাকে সুযোগ দেন, বলেন দেখো পার কি-না। প্রস্তাবটা আমার পছন্দ হয়। এটা করার জন্য আমাকে বাইরেও যেতে হবে না, আবার আমার কাছেও একটা কাজ আছে।

সারাবাংলা: তাহলে ঘরেই শুরু হল ব্যবসাটার?

ফারহানা: একদম শুরুতে আমি বাড়িতেই কাজ করতাম। খুব দ্রুতই কাজের পরিমাণ এমন হয়ে দাড়ালো আমার দুজন কর্মী নিয়োগ দিতে হলো। সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতাম আমার বাড়ির অতিথিদের জন্য বরাদ্দ ঘরে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে কর্মী সংখ্যা আরও বেড়ে গেলো। আমরা আলাদা একটা জায়গা খুঁজে নিলাম কাজের জন্য। ঘরের মধ্যে সেই প্রফেশনালিজমটা ধরে রাখা যাচ্ছিল না।

সারাবাংলা: বাহ এ তো স্বপ্নযাত্রা...

ফারহানা: যতটা সহজ শোনাচ্ছে, যাত্রাটা আসলে এত সহজ ছিল না। ২০০৫ এ আমি যখন ফরমাল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কাজ শুরু করি, লোকাল মার্কেট থেকে কোনো সুবিধা করতে পারিনি। প্রথমত সেক্টরটা ছিল আইটি, দ্বিতীয়ত, আমি একজন নারী। সহসাই এই বাজার থেকে আমি ছিটকে পড়লাম। এই বাজারে ঢুকতে আমার সময় লাগলো আরও পাঁচ বছর। আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে করতেই লোকাল বাজারে চাহিদা তৈরি হয়ে গেল।

সারাবাংলা: তখনকার অবস্থা ও বর্তমানের অবস্থার মধ্যে পার্থক্যটা কি দেখেন?

ফারহানা: সেই সময় একজন মেয়ে এই সেক্টরে আসবে এইটাই একটা বড় ‘শক’ ছিল। এখন সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারেও অনেকে চায় মেয়েরা কাজে আসুক। তবে বেশিরভাগ মানুষ চান মেয়েরা কাজটা ঘরে বসে করুক। এতে পেশাদারিত্বে সমস্যা তৈরি করে।

সারাবাংলা: তাহলে আইসিটিতে মেয়েরা সুবিধা পায় এই কথাটা কীভাবে এলো?

ফারহানা: সুবিধা তো অবশ্যই আছে। যেমন ধরুন কারও কাস্টমার ইউরোপিয়ান হন, তবে দুপুর পর্যন্ত ঘর থেকে বের হওয়ার বা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার তাড়া নেই। তবে এখানে একটা অসুবিধাও আছে। আইসিটি ব্যবসাতে কাজ করতে হলে শুধু আইটিতে জ্ঞান যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে, ব্যবসা বিষয়ও জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এখানে আমাদের মেয়েরা পিছিয়ে পরছেন।

সারাবাংলা: তাহলে এখনও এই খাতে মেয়েদের জন্য প্রতিবন্ধকতা রয়েছে?

ফারহানা: অবশ্যই। মেয়েরা এখনও বড় হয় প্রচলিত পথে ডাক্তার বা শিক্ষক হওয়ার চেষ্টায়, আইসিটি খাতে তাদের উপস্থিত যথেষ্ট কম। অধিকাংশ মেয়ের কাছে নিজস্ব কোনো পুঁজি নেই। ফলে তারা ব্যবসা শুরু করতে পারে না। ব্যাংকের ফর্ম এখনও মেয়েদের জন্য যথেষ্ট জটিল। পরিবারে মেয়েরা প্রথমেই হেরে যায়, ‘তুমি মেয়ে তুমি কি পারবে?’ প্রশ্নের কাছে।

এর বাইরে আইনি জটিলতার সমস্যা তো আছেই। একটা মেয়ে কাজ শুরু করল কিন্তু তার কোনো লিগ্যাল সাপোর্ট নেই, মেধাস্বত্ত্বের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত আইন নেই। এরকম অবস্থায় সমস্যায় পড়লে কোথায় যাবে, কী করবে- এসব অনিশ্চয়তায় এখনও জায়গাটা নারীর দখলে আসেনি।

সারাবাংলা: এ তো গেল নারীদের প্রতিবন্ধকতা, এ ছাড়া আইসিটি খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কী আছে বলে আপনি অনুভব করেন?

ফারহানা: আউটসোর্সিং ব্যবসার ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স নিয়ে আসা অনেক জটিল ছিল। এখন তা কিছুটা সহজ করা হয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম প্যাপল দেশে কবে আসবে তা এখনও আমারা জানি না। আমার জানা মতে দেশে এখনও প্যাপল আসেনি।

সারাবাংলা: আপনার সফলতার মধ্যে অন্যতম একটি ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার—

ইউওয়াইভিএমএস, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ৫ টি সফটওয়্যারের একটি। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেই দেশীয় সফটওয়্যারই ব্যবহার হয় না, এটাকে কিভাবে দেখেন?

ফারহানা: ২০১২ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে এখন ইউওয়াইভিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ভ্যাট নিরূপনে ভ্যাট এক্সপার্ট প্রয়োজন হয় না। একজন অপারেটরই তা করতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানের খরচ ও সময় উভয়ই বেঁচে যায়। সব সময় রফতানির কথা বলছি, দেশীয় বাজারের কথা কিন্তু বলছি না, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাইজড হওয়ার ফলে দেশীয় বাজারও তৈরি হচ্ছে।  দেশীয় সফটওয়্যার কেউই নিতে চায় না। এটা জাতিগত সমস্যা। অধিকাংশ ব্যাংকেই বিদেশী সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে মাত্র দুটো ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে। দেশি ক্রেতার যদি দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করে তাহলে দেখবো দু’বছরের মধ্যেই দেশে বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। বিদেশি সফটওয়্যারে কেনার পরে সার্ভিস পাওয়া যায় না। আবার ওইসব সফটওয়্যার দেখভালের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। অথচ আমাদের দেশের সফটওয়্যার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে।

সারাবাংলা: এবার বেসিস নির্বাচনে তো টিম হরাইজন নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। আপনাদের প্যানেল সম্পর্কে কিছু বলুন...

ফারহানা : আমাদের প্যানেলটিতে অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিগত বোর্ড থেকে তিনজন এসেছে। তিনজন একেবারেই নতুন। অর্থাৎ আমরা ৩-৩-৩ কৌশল বেছে নিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের আগের কাজগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

সারাবাংলাা: নির্বাচনের আগে আপনাদের কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলো নিয়ে এখন কী ভাবছেন?

ফারহানা: নির্বাচন নিয়ে আমরা কয়েকটি বিষয়ের উপর বিশেষ জোর দিয়েছি। এক. রফতানি পণ্যের নতুন বাজার খোঁজা, দুই. দেশীয় বাজারে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রসার ঘটানো, তিন. আইসিটি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীনে ‘আইসিটি পণ্যের বায়িং হাউজ’ গড়ে তোলা এবং চার. দেশের আইসিটি খাতের উপর বিশেষ জরিপ পরিচালনা। এছাড়াও আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাতটির সবাই যাতে মানিয়ে নিতে পারে সেভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলাসহ ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ে জোর দিতে চাই।

শুধু ইউরোপ ও আমেরিকা নয়, আরও নতুন নতুন বাজার খুঁজতে হবে। আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা কিন্তু সেভাবে সচেতন হননি। আবার বিশ্ব বাজারও পরিবর্তন হচ্ছে। তাই পুরোনো প্রযুক্তির সাথে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে। বর্তমানে আমরা ইউরোপ আমেরিকায় কাজ করছি। আবার নতুন বাজার খুঁজছি। তবে একই সময়ে নতুন বাজারও তৈরি হচ্ছে। যেমন, আফ্রিকা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও জাপান। ৫ বছর আগেও আমরা এতো আত্মবিশ্বাসী হয়ে জাপানের কথা বলতে পারতাম না। আবার দেশে সরকারী যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাইজ হচ্ছে, এর ফলে বেসরকারি খাতেও বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। দেশীয় বাজার কিন্তু অনেক বড়।

আমাদের এই বাজারকে আরও বেশি প্রস্তুত করে তুলতে হবে। রফতানির ক্ষেত্রে সবগুলো পণ্য এক সাথে প্রদর্শনের জন্য বায়িং হাউজ করার লক্ষ্য রয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) চারটি লোকেশনে চারটি ডেস্ক থাকবে। এটা ইপিবিকে দিয়ে করিয়ে নিতে হবে। তারা যেন বায়িং হাউজ মডেল তৈরি করে। যার যেটাতে অভিজ্ঞতা আছে তাকে সেটাতেই সুযোগ দিতে হবে।

সারাবাংলা: বেসিস সদস্যদের কারিগরি উন্নয়নে কী ধরণের সহায়তা দিবেন?

ফারহানা: পরিচালানা পর্ষদে থাকা বা বাইরে থাকার সময়ে আমি ব্যাংকের সি-ফর্ম সহজকরণ, বেসিস ব্রাক ব্যাংক কো ব্রান্ডেড কার্ড প্রবর্তন, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, ভ্যাট ও কর বিষয়ক সফটওয়্যার নির্মাণ, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কাজ করেছি। এমন কাজগুলো অব্যাহত থাকবে।

আমি নেদারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিইউএম’র মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী পাঠিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। গত ২ বছরে ৬০ টি কোম্পানির সাথে তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। ওই সব কোম্পানিতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এ কাজগুলো অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বেসিসে আমিই প্রথম নারী পরিচালক। নারী সদস্যদের বেসিসে আসার ক্ষেত্রে আমি অনেক আগ্রহ তৈরি করেছি। অথচ আমি আসবো কি-না তা নিয়েও ৫০ বার চিন্তা করেছি। তখন নারী প্রতিনিধি ছিল না। এখন নারী পরিচালক আছেন, ফলে নারীরা আসতে উৎসাহ দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও বেশি কাজ করে যাবো।

সারাবাংলা: বেসিস তার সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে তেমনভাবে কার্যকর নয় বলে অভিযোগ রয়েছে...

ফারহানা: বেসিস আগে অনেক দুর্বল ছিল, সেখানে এখন অনেক কাজ হচ্ছে। বেসিস হাজার রকমের ইস্যু নিয়ে কাজ করে। একেক জনের সমস্যা একেক রকম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হতে পারে কাজ হচ্ছে না। তবে কোন সদস্য তাদের সমস্যা সম্পর্কিত কোন ইস্যু নিয়ে এলে কাজ হয়নি তা আমার চোখে পড়েনি। তারপরও বলব, সদস্যদের আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে। তাদের ভয়েস আরও রাইজ করতে হবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এটি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন