বিজ্ঞাপন

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুশোখ উন্মোচনে দায়মুক্ত হবে জাতি’

August 14, 2021 | 1:00 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বাঙালি জাতি হিসাবে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুব রহমান হত্যাকান্ডের মেইন কুশীলবদের যতক্ষণ পর্যন্ত মুশোখ উন্মোচন করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়মুক্ত হবে না।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস স্মরণে সংগঠনটি এই আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

কেন কী কারণে বঙ্গবন্ধুর মতো মহান এই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে? এটি কি শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য হয়নি। পৃথিবীর অনেক দেশেই ক্ষমতা দখলের জন্য অনেক সময় রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করার নির্দশন আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু না হয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, শেখ রাসেল তো কোন অন্যায় করেনি? ছোট্ট শিশু ছিল, মাত্র নয় বছর বয়স । তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কী অপরাধ ছিল?’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পাকিস্তান এবং পৃষ্ঠপোষকরা পরাজিত হয়েছিল তাদের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিল। এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হত্যার জন্য। এই বাংলাদেশকে আবার পরাধীন রাষ্ট্র তৈরি করার জন্যই।

কারা করেছিলেন, কারা জড়িত ছিলেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রশ্ন তুলে আগামী প্রজন্মকে এ ব্যাপারে জানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল! আত্মস্বীকৃত খুনী কর্নেল রশিদ, ফারুক মেজর হুদা পাশাসহ অনেকেই যাাদের বিচার হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এখনও অনেকে বিদেশে পলাতক রয়েছে, তাদেরকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যে বিষয় কখনো সামনে আসে নাই যে এই চক্রান্তকারীদের সঙ্গে এই আত্মস্বীকৃত খুনীদের সঙ্গে চক্রান্তকারী হিসাবে কারা কে নেপথ্যে জড়িত আছে। নেপথ্য কুশীলব কে ছিল? সেটি ছিল খুনি জিয়াউর রহমান।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না বলে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছদ্মবেশী এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট এবং এজেন্ট থেকেই এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মেইন কুশীলব-চক্রান্তকারী হিসেবে উনি কাজ করে গেছেন।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার হয়েছে। আশা করি, যারা বিদেশে পলাতক আছে, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কন্যা উনি চায় ওনার পিতা হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছেন। কিন্তু আমরা বাঙালি জাতি আমরা আমাদের জাতির পিতার হত্যার মেইন কুশীলব যতক্ষণ পর্যন্ত বের করতে না পারব, তাদের মুশোখ উন্মোচন করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দায়মুক্ত হবে না।’

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যারা কিশোর-কিশোরী তাদের দায়িত্ব হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে এই আত্মস্বীকৃত খুনিদের পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেই খুনি জিয়াউর রহমানসহ যারা জড়িত ছিল তাদের মুখোশ উন্মোচন করে বিভাজিত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। তাহলেই আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন সেই সোনার বাংলা আমরা গড়তে পারব। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারব’ বলে মনে করেন হানিফ।

শেখ রাসেল শিশু কিশোর সংগঠনটি অনেক পুরনো এবং দুঃসময়ের সংগঠন মন্তব্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় বিভিন্নভাবে দেখছি অনেক ভুঁইফোঁড় সংগঠন দাঁড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের যে গঠনতন্ত্র রয়েছে, সেই গঠনতন্ত্র অনুসারে সহযোগী সংগঠনের একটি তালিকা রয়েছে। এখন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, অনেকে গ্রেফতার হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ সংগঠনকে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসাবে স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি যে সকল ভুঁইফোঁড় সংগঠন এখনো তাদের কাযক্রম চালাচ্ছে। ভুঁইফোঁড় সংগঠন নিধন করার জন্য অভিযান চলছে, তার মধ্যেও অনেকে এখনো কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

তাদের বিরুদ্ধে আরও সাড়াশি অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইন সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরুসহ সংগঠনের মহাসচিব কে এম শহিদ উল্লা।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন