বিজ্ঞাপন

কাছ থেকে দেখা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার

August 15, 2021 | 11:19 am

আজমল হক হেলাল

১৯৯৬ সালে আমি দৈনিক রুপালীতে স্টাফ রিপোর্টার পদে কর্মরত। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা ফকিরাপুলে দৈনিক রুপালী অফিসে গিয়ে ইউনিট কমিটি গঠন করেন। আমাকে করা হয় ইউনিট চিফ এবং সালেহ বিপ্লবকে করা হয় ডেপুটি চিফ ইউনিট। আমাকে কেন ইউনিট চিফ করা হলো? এ জন্য আমাকে শাস্তিমূলকভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা কাভারেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন মাহাফুজুর রহমান মিতা (বর্তমানে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি।) তিনি প্রয়াত এমপি দ্বীপবন্ধু মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ছেলে তিনি।

ওই সময় দৈনিক রুপালীর চিফ রিপোর্টার ছিলেন কুদ্দুস আফ্রাদ। বর্তমানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

একদিন রাত ১১টায় বার্তাকক্ষে নির্বাহী সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিতা এসে কুদুস আফ্রাদ ভাইকে বললেন কাল থেকে হেলালকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামালার কার্যক্রম কাভার করার জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দেবেন।  এই মামলার বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওকে অ্যাসাইনমেন্টে বহাল রাখবেন।

নির্বাহী সম্পাদকের আদেশ অমান্য করার উপায় নেই। হয় আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে হবে, না হয় চাকরি ছাড়তে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে বুকটা কেঁপে উঠল কার সাহায্য নেব? স্পটে গিয়েই আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্ট ছিল যেহেতু শাস্তিমূলক তাই রিপোর্ট মিস করব, তো চাকরি নেই। তাই মনে সাহস রেখে চাকরি রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।

পরের দিন সকালে অফিস আদেশ পালন করতে একটি ছোট নোট বই নিয়ে সকাল ৯টার আগে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে চলে যাই। বিশেষ ট্রাইব্যুনালটি ছিল কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন। এ আদালতেই চলবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার। আদালতে ঢুকতেই গোয়েন্দা সংস্থার লোককজন আমার নাম লিপিবদ্ধ করে নিল। এরপর দেহ তল্লাশি করে পাঠায় দোতলায়।

বিজ্ঞাপন

আমি দোতলায় গিয়ে এজলাস কক্ষে ঢুকেই দেখি বন্ধু মাহমুদুর রহমান খোকনকে। খোকন এখন দৈনিক করতোয়ায় বার্তা সম্পাদক। ওই সময় সে বার্তা সংস্থা আবস এ স্টাফ রিপোর্টার পদে কর্মরত। আমাকে দেখেই মিষ্টি একটি হাসি দিয়ে ওর পাশে বসতে বলল। ওর পাশে চুপ করে বসে পরিস্থিতি দেখছি আর ভাবছি। আমাদের পাশে অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিকরাও রয়েছেন। এরমধ্যে আমাদের সকলের শ্রদ্বেয় মনোজ রায় তিনিও বাসসের প্রতিনিধি হিসেবে রিপোর্টি করতেই কক্ষে উপস্থিত আছেন।

একটু পরেই পুলিশের তৎপরতা। বাঁশির হুইসেল। এ সময় বন্ধু খোকন আমাকে বলল আসামিদের নিয়ে আসছে। এরপরই দেখি পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরা, হাতে হাতকড়া, বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনি প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দীন ঠাকুরসহ অন্যান্য আসামিদের পুলিশ পাহারায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রিজনভ্যানে করে নিয়ে আসা হয়। আসামিরা এজলাস কক্ষে ঢুকে আমাদের পেছেন টুলে বসেন। এর ৫ মিনিট পরেই আদলতের একজন ব্যক্তি ঘোষণা দিলেন মাননীয় বিচারক আসছেন। কালো গাউন পড়া বিচারক গোলাম রসুল এজলাসে তার আসনে বসলেন। শুরু হলো সাক্ষীদের জেরা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। আমি নোট নিতে পারছিলাম না। কারণ আমার কাছে ছোট নোট বই। আর সকলের কাছে বড় সাদা কাগজ। তারা সঙ্গে একটি বোর্ড নিয়েছে। বোর্ডের ওপর সাদা কাগজ রেখে তারা লিখছে।

ওই দিন আমাকে পুরো রিপোর্টিংয়ের সাহায্য করেন বন্ধু মাহমুদুর রহমান খোকন। পরের দিন আমি সাদা কাগজ আর বোর্ড নিয়ে আদালতে চলে যাই। চমৎকারভাবে নোট নিই। বিকেলে আদালতে কার্যক্রম শেষ হয় অফিসে চলে আসি। শুধু ইন্ট্রোটি লিখে দিতাম আর পুরো রিপোর্টটি প্রশ্ন উত্তর এভাবে ছাপা হতো।

যে দিন আদালতে মেজর জেনারেল ( অব.) শফিউল্লার জেরা করা হয়, সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনি লে. কর্নেল ফারুক রহমানের কৌসলী আ্যাডভোকেট খান সাইফুর রহমান খুবই দক্ষতার সঙ্গে জেনারেল শফিউল্লাহকে জেরা করেন। শুরুতেই তিনি শফিউল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কী লেখাপড়া জানেন? সাক্ষী শফিউল্লাহ কাঠগড়ায় অনেকক্ষণ চুপ থাকেন।

এ সময় আ্যাডভোকেট খান সাইফুর রহমান বিচারক গোলাম রসুলকে বলেন, স্যার লিখুন, আপনি কি লেখাপড়া জানেন? সাক্ষী চুপ। এ বিষয়টি আদালতকে নোট করতে হবে। কারণ উচ্চ আদালতে এই পয়েন্টটি আমার প্রয়োজন হবে। এ সময় বিচারক গোলাম রসুল সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শফিউল্লাহ সাহেব আ্যাডভোকেট আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করবে তার জবাব আপনাকে দিতে হবে। আবার খান সাইফুর রহমান জেনারেল শফিউল্লাহকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি লেখাপড়া জানেন? এসময় শফিউল্লাহ জবাব দেন হ্যাঁ জানি। তখন আ্যাডভোকেট খান সাইফুর রহমান বলেন, তা হলে এই লেখাটি পড়ুন। কাঠগড়ায় ঝুলিয়ে রাখা একটি বোর্ডে লেখা ’আমি হলফ করিয়া বলেতেছি যে, যাহা বলিব সত্যি বলিব। জেনারেল শফিউল্লাহ লেখাটি পড়েন। এ সময় আদালতে উপস্থিত অন্যান্য আসামিরা মুচকি হাসছিলেন।

পরে জেনারেল শফিউল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয় সেনা সদরে তার বাসা কোন জায়গায় অবস্থিত? ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাতে তিনি কোথায় ছিলেন। ওই দিন গত রাতে অর্থাৎ ১৫ আগস্ট ভোট রাতে তিনি ট্যাংকের শব্দ পেয়েছেন কিনা? কারণ ট্যাংক বের হলে তার বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে বের হতে হবে। সেনা সদস্যদের ঘুম গভীর নাকি পাতলা? বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন, তা তিনি রিসিভ করেছিল কিনা ইত্যাদি।

এক পর্যায় শফিউল্লাহ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কাঠগড়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কারণ আ্যাডভোকেটের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি তার কর্তব্য অবহেলার বিষয়টি পরিষ্কার করে ফেলেন। হত্যা মামলার রায়ের দিন গোলাম রসুল এজলাসে দাঁড়িয়ে রায় পড়ে শোনানোর সময় বলেন, ‘শফিউল্লাহকে আসামি না করে সাক্ষী করা রাষ্ট্রপক্ষের ঠিক হয়নি।’

এ ছাড়া আদালতে একদিন এন্থানি মাসকারেন্স-এর নেয়া ফারুখ রশিদের সাক্ষাৎকারের ভিডিও রেকর্ডটি চালু করে দেখানো হয়। এ সময় বিচারপতি গোলাম রসুল লে. কর্নেল অব. ফারুখ রহমানের আইনজীবী খান সাইফুর রহমানকে বলেন, ‘খাঁন সাহেব এরপরও কী সাক্ষীদের জেরা করা প্রয়োজন?’

এ সময় খান সাইফুর রহমান এজলাসের বাইরে পায়চারি করছিলেন। খাঁন সাইফুর রহমান এ সময় বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি ভিডিও দেখিনি। ওটি আমি দেখার প্রয়োজন মনে করি না।’

পরে বিচারক গোলাম রসুল আসামি লে. কর্নেল ফারুখ রহমানকে বলেন, ‘ভিডিওটিতে যে ছবি দুটি দেখা যাচ্ছে ওই ছবি দুইজনকে আপনি চেনেন? কর্নেল ফারুখ দাঁড়িয়ে জবাব দেন, হ্যাঁ চিনি। একজন আমি নিজে কর্নেল অব. ফারুখ রহমান অপরজন লে. কর্নেল রশিদ। ওই সাক্ষাৎকারে লে. কর্নেল ফারুখ আর কর্নেল রশিদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং ১৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দেন।

অপর একদিন একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার জেরা করা হয়। ওই সেনা কর্মকর্তার নাম আমার মনে নেই। তিনি জানান, ১৫ আগস্ট রাতে তার ডিউটি ছিল ৩২ নম্বরে। খুনিরা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করার পর শেখ রাসেলকে ভবনের নিচে নিয়ে আসে। ওই সময় শেখ রাসেল কান্না করছিল আর বলছিল আমি মায়ের কাছে যাব। তখন খুনিদের একজন শেখ রাসেলকে হত্যা করার ইঙ্গিত দিলে,  একজন সেপাই রাসেলকে ভবনের সিঁড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করে।

এ সব ঘটনা ছাড়াও ওই দিন কর্তব্যরত সেনা সদস্য সাক্ষীরা আদালতে জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট আগের রাতে অর্থাৎ ১৪ আগস্ট রাতে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যারা ডিউটি করছিলেন, সে সব কর্তব্যরত সেনা সদস্যদের অস্ত্রের গুলি সন্ধ্যার পর নিয়ে নেওয়া হয়।

লে. কর্নেল অব. হামিদ (সাবেক ফুটবলার কাওসার হামিদের বাবা) ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের স্টেশন কমান্ডার। তাকে জেরা করার সময় আদালতেকে জানান, লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল রশিদ, শাহরিয়ার রশিদসহ অন্যান্য জুনিয়র অফিসাররা ক্যান্টনমেন্ট লং টেনিস কোটের কাছে যেতেন। ওই সময় মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বিষয়টি নিয়ে কর্নেল হামিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন।

 শাহরিয়ার রশিদ, কর্নেল ফারুক রহমান ও মেজর ডালিমের কাছে কর্নেল হামিদ জানতে চান তারা কেন এখানে আসেন? তখন তারা কর্নেল হামিদকে জানান, তারা জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছে আসেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান তাদের আসতে বলেছেন।

জেনারেল শফিউল্লাহ ওই সব অফিসারদের ওখানে যেতে নিষেধ করে দিতে কর্নেল হামিদকে নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর পোশাক সর্ম্পকে আদলতে জেরার মুখে একজন সাক্ষী জানান, বিপদগামী চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তাদের পোশাক লে. কর্নেল সৈয়দ কর্নেল ফারুক রহমানের মাধ্যমে সরবরাহ করেন জিয়াউর রহমান।

আদালতে বিচারকার্য একটানা দুপুর পর্যন্ত চলতো। এরপর আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টার জন্য বিরতি দেওয়া হতো। এ সময় আসামিদের আত্মীয়স্বজনরা আসামিদের সঙ্গে কথা বলত। তারা খাবার নিয়ে গেলে সেই খাবার খেত। আসামি তাহের উদ্দিন ঠাকুর, সেনা অফিসার (অব.) মহিউদ্দিন তসবি পড়তেন। রশিদ শাহরিয়ার পান চিবুতেন আর তার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতেন।লে. কর্নেল অব. ফারুখ রহমান তার বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারকার্যের সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করত। একদিন একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে একটি পত্রিকায় রিপোর্টারের ওপর চড়াও হন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এক পর্যায়ে আদালতে সাংবাদিক বনাম আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ওই সময় গোরাম রসূল এজলাস থেকে নেমে যান। আইনজীবী হাবিবুর রহমান মণ্ডল সাংবাদিকদের ওপর এ হামলা করেন।

১৪৮ দিন শুনানি শেষে মামলার বিচারক কাজী গোলাম রসুল ৮ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করার দিন ঠিক করেন।

ওইদিন বিচারক গোলাম রসুল দুপুর ১ টায় এজলাসে উঠেন এবং রায় পড়ে শোনান। এ সময় বঙ্গবন্ধুর হত্যা বিচারের গ্রেফতারকৃত খুনিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। সকলে তসবি টিপছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অরডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ১২ আসামির মৃত্যদণ্ড বহাল থাকে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন