বিজ্ঞাপন

যে জেলার হয়ে খেলিনি, সেখানে কীভাবে নিষিদ্ধ করে?

August 17, 2021 | 1:29 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয় এনে দেওয়ার নায়ক স্পিনার নাসুম আহমেদ। বল হাতে ঘূর্ণি জাদুতে কুপোকাত করেছেন অজি ব্যাটারদের। খেলা শেষে মিলেছিল ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। তবে অবাক করা ঘটনা হচ্ছে জন্মস্থান সুনামগঞ্জে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবকিছু থেকেই আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ এই টাইগার। ২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা নাসুমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথেই জানা গিয়েছিল এই ব্যাপারটি। অবশেষে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন এই টাইগার। নাসুম জানান, এক সময় তার দাদার বাড়ি ছিল সুনামগঞ্জে। কিন্তু সেই ১৯৫৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে চলে আসেন সিলেটে। তাই সুনামগঞ্জ এখন যেহেতু তার পৈতৃকনিবাসই নয়, তারা নিজ জেলার খেলোয়াড় বলে কিভাবে নিষিদ্ধ করে? সেই প্রশ্ন তরুণ এই স্পিনারের।

জন্মস্থান সুনামগঞ্জে ক্রিকেটে আজীবন নিষিদ্ধ নাসুম

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্টে নাসুম এই ঘটনার পুরো ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার জন্ম, বড় হওয়া, পড়ালেখা কিংবা ক্রিকেট খেলা, সবকিছুই সিলেটে। আমার বাবার জন্মও সিলেটে। একসময় আমার দাদাবাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় ছিল। কিন্তু আমার দাদা ১৯৫৮ সালে সিলেটে স্থায়ীভাবে চলে আসেন। ছোটবেলা সুনামগঞ্জে একবার গিয়েছিলাম এবং রাস্তাঘাটও ঠিক ভাবে চিনিনা ওখানকার। পরবর্তীতে ওখানকার একটা টুর্নামেন্টে একবার 'খ্যাপ' খেলতে গিয়েছিলাম।’

যে জেলার হয়ে খেলিনি, সেখানে কীভাবে নিষিদ্ধ করে?

বিজ্ঞাপন

‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদে হয়তো অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছেন আমি আমার জেলা দলে নিষিদ্ধ। কিন্তু আমি যে জেলার হয়ে কখনো খেলিনি, তারা আমাকে কিভাবে নিষিদ্ধ করে? ২০০৫ সালে ১১ বছর বয়সে আমি পেশাগতভাবে ক্রিকেট শুরু করি এবং ওই বছর জেলা ক্রিকেটে সুনামগঞ্জের কোন দলই ছিল না। তখন থেকে সবসময়ই সিলেটের হয়ে খেলেছি। সিলেট লীগে খেলেছি ২০০৬ সাল থেকে এবং সিলেট জেলা দলে খেলেছি ৩ বছর, আর বিভাগীয় দলে ২০১০ সাল থেকে। আল্লাহ্-র অশেষ রহমতে আমি বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে সবার দু'য়া কামনা করি।’

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা ছেড়ে সিলেট জেলা দলে খেলার সিদ্ধান্তের কারণে ২০১৫ সালে জেলার ক্রীড়া সংস্থা নাসুমকে আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে পরবর্তীতে ২০২০ সালে আবারও নিজের জেলার হয়ে খেলার জন্য আবেদন করলেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

নাসুমের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী জানান তিনি এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জানতেন না কিছুই। 'নাসুম সুনামগঞ্জ জেলা দলে না খেলে অন্য জেলার হয়ে খেলায় তাকে আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটি নিষিদ্ধ করেছিল। এই সিদ্ধান্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটিতে পাঠানোর পর তৎকালীন কমিটি তাকে বহিষ্কারের অনুমোদন দেয়। বিষয়টি আমার জানা ছিল না।'

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন