বিজ্ঞাপন

তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার বিচার শেষ হয়নি ৬ বছরেও

August 20, 2021 | 10:39 am

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই মামলাটির বিচার শেষ করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউশন মো. গোলাম সারোয়ার খান (জাকির) সারাবাংলাকে জানান, করোনাভাইরাস ও আইনের অন্যান্য জটিলতা কেটে যাওয়ায় পুনরায় মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে।

তিনি বলেন, আশা করি খুব দ্রুত বিচার শেষ করতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। এ পর্যন্ত যতগুলো সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে সবগুলোর সাক্ষী আসামিদের বিরুদ্ধে গেছে। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

বিজ্ঞাপন

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ সারাবাংলাকে বলেন, এই পর্যন্ত যতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা কেউ আসামিদের নাম বলেননি। ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারায়ও সাক্ষীরা আসামিদের নাম বলেননি। এজন্য তাদের জেরাও করা লাগেনি। তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে এটা সত্য ঘটনা। তবে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

তিনি আরও বলেন, এ মামলার দ্রুত বিচার হলে আসামিরা খালাস পাবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ ইচ্ছেকৃতভাবে মামলাটি বিলম্বিত করছে, আসামিদের জেলহাজতে আটকে রাখার জন্য। অন্যান্য আসামিদের জামিন হলেও এসব আসামিদের জামিন হয় না।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে। চার্জশিটভুক্ত ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হলে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা হোসেনি দালানে বোমা হামলা চালায়। এতে দু’জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ওই ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় তাদের (আইএস) কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। পরের বছর ৩১ মে ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আবদুল বাকি আলাউদ্দিন ওরফে নোমান, সাঈদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব, আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাঈদ সোলায়মান ওরফে সালমান, শাহ জালাল, চাঁন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে মানিক। আসামিদের মধ্যে তিনজন কারাগারে, বাকি ৫ জন জামিনে রয়েছে।

আসামিদের মধ্যে জাহিদ হাসান ওরফে রানা, আরমান ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক বিভিন্ন সময়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় এ উপলক্ষে সকল প্রকার মিছিল ও শোভাযাত্রা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিপালিত হবে।

সারাবাংলা/এআই/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন