বিজ্ঞাপন

আফগান শরণার্থীরা যাবে কোথায়?

August 22, 2021 | 9:00 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০০১ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বারা উৎখাতের ঠিক দুই দশক পর আফগানিস্তানে তালেবানের পুনঃউত্থানে শঙ্কিত সাধারণ আফগানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। আফগানিস্তান থেকে পালাতে তাদের সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটো সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

দেশটিতে চলমান সংঘাতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে ন্যাটো। তবে এর মধ্যেই সীমান্ত দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রায় ২২ লাখ শরণার্থী। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সব মিলিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৩৫ লাখের বেশি মানুষ। এদের বেশিরভাগের হাতেই দেশ ছেড়ে পালানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার আগেই দেশটি থেকে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে ন্যাটো জানিয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার আফগান নাগরিককে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ আফগান নাগরিক বিদেশে আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

আফগান শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছেন যেসব দেশে
গত বছর থেকে আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান। ফলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এছাড়া লাগাতার আত্মঘাতী হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সাধারণ আফগানদের জীবন। গত বছর থেকেই বিশাল সংখ্যক আফগান নাগরিক বিদেশে পাড়ি জমানো শুরু করেন।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরানই শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। গত বছর এ দুই দেশ সবচেয়ে বেশি আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্যমতে, ২০২০ সালে পাকিস্তানে প্রায় ১৫ লাখ আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ইরানে আশ্রয় নিয়েছেন ৭ লাখ ৮০ হাজার।

আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে জার্মানি। দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ১০০ আফগান। তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৩০০ আফগান শরণার্থী। এছাড়া অস্ট্রিয়ায় ৪৬ হাজার ৬০০, ফ্রান্সে ৪৫ হাজার ১০০, গ্রিসে ৪১ হাজার ২০০, সুইডেনে ৩১ হাজার ৩০০, সুইজারল্যান্ডে ১৫ হাজার ৪০০, ভারতে ১৫ হাজার ১০০, ইতালিতে ১৩ হাজার ৪০০, যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ৬০০, অস্ট্রেলিয়ায় ১২ হাজার ৪০০, বেলজিয়ামে ৮ হাজার ৯০০, ইন্দোনেশিয়ায় ৭ হাজার ৬০০ আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আফগান শরণার্থীদের শীর্ষ গন্তব্য হতে যাচ্ছে যেসব দেশ
উল্লেখ্য যে, তুরস্ক ইতিমধ্যে বহু আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেও, আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর সীমান্তে কড়া টহল বসিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে মিলে সীমান্তে শরণার্থীর ঢল ঠেকাতে দেওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ওই দেশটিতেও বহু আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশ নিশ্চিতভাবেই আফগান শরণার্থীদের পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে সেগুলো হলো—

    • ইরান
      ইরানে আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য ইতিমধ্যে শিবির নির্মাণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকেই ইরানে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে। এসব শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী তিনটি প্রদেশে শিবির নির্মাণ করা হয়েছে। তেহরান অবশ্য জানিয়েছে, ইরানে যেসব আফগানরা প্রবেশ করেছেন, অবস্থার উন্নতি হলে তাদের আবার নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
    • পাকিস্তান
      পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত জুনে জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের দখল তালেবানের হাতে চলে গেলে তার দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেবে। তিনি জানান, পাকিস্তানে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার আফগান প্রবেশ করেছে। তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের কমপক্ষে একটি সীমান্ত প্রবেশ পথ এখনও খোলা রয়েছে। যদিও তালেবান ওই প্রবেশ পথে কড়া টহল বসিয়েছে।
    • তাজিকিস্তান
      আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশটিতে এ পর্যন্ত কতজন আফগান প্রবেশ করেছেন তার কোনো সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে অন্তত কয়েক হাজার আফগান দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন আফগান সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও। তাজিকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ১ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত তারা।
    • উজবেকিস্তান
      সম্প্রতি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রায় ১৫০০ শরণার্থী উজবেকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সেদেশে শিবির গড়ে বসবাস করছেন। তবে উজবেকিস্তান সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সেদেশে প্রবেশ করা আফগানদের জন্য এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তালেবানরা এখন ভিসা ছাড়া কাউকে উজবেকিস্তানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তবে প্রতিবেশী দেশ হওয়ার কারণে সেদেশে বহু আফগান শরণার্থী প্রবেশ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    • যুক্তরাজ্য
      যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে ২০ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হবে। ব্রিটিশ সরকারের আফগান নাগরিক পুনর্বাসন প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রথম বছরে ৫ হাজার আফগানদের যুক্তরাজ্যে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া। এ প্রকল্পের আওতায় আফগানিস্তানে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
    • যুক্তরাষ্ট্র
      যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদনকারী আফগান শরণার্থীদের সহায়তা করতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৫০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে তার দেশ ঠিক কত সংখ্যক আফগান শরণার্থী আশ্রয় দেবে তা এখনও স্পষ্ট করেননি।
    • কানাডা
      কানাডা জানিয়েছে, তালেবানদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আফগানিস্তানের প্রায় ২০ হাজার নাগরিককে পুনর্বাসন করবে দেশটি।
    • অস্ট্রেলিয়া
      অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পলায়নরত ৩ হাজার নাগরিককে অভিবাসন ভিসা দেওয়া হবে। তবে এ সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে স্কট মরিসন সরকার।
    • উগান্ডা
      উগান্ডার সরকার জানিয়েছে, ২ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে রাজি হয়েছে তারা। দেশটি ইতিমধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয়স্থল। শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে উগান্ডা বিশ্বে তৃতীয়।
    • জার্মানি
      জার্মানি ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কিছু আফগান শরণার্থীকে গ্রহণ করবে বার্লিন। তবে এ পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি দেশটি। চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মার্কেল ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বহু শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে ইতিমধ্যে তার দেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। তবে মার্কেল জানিয়েছেন, জার্মানির মূল লক্ষ্য হলো, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থীদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।
    • উত্তর মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো
      উত্তর মেসিডোনিয়া ইতিমধ্যে জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে ৪৫০ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হবে। এছাড়া আলবেনিয়া জানিয়েছে, তারা ৩০০ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কসোভোও আফগান শরণার্থীদের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে। তবে এখন দেশটি কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেনি।

—বিবিসি অবলম্বনে

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন