বিজ্ঞাপন

লিয়াকতের ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়’ পুনঃতদন্তে পিবিআই

August 26, 2021 | 8:18 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও পরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই মামলায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফে সেনা কর্মকর্তা ‘হত্যাকাণ্ডে’ সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আরও চার জনসহ মোট সাত জন অভিযুক্ত হিসেবে আছেন।

বিজ্ঞাপন

এক বছর আগে আদালতে দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বাদী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজা নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পিবিআইকে ‍পুনঃতদন্তের আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী জুয়েল দাশ সারাবাংলাকে বলেন, ‘নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সাত আসামির সবাইকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে, সেটি আমরা প্রত্যাখান করছি। নারাজি আবেদনে আমরা এই তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেছি। শুনানি শেষে আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে মামলা পুনরায় পিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ২৬ আগস্ট নগরীর পতেঙ্গা থানার নাছিরনগর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এস এম জসিম উদ্দিন ৯ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করলেও সিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (পরে চাকরিতে ইস্তফা দেওয়া) বাবুল আক্তারসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেটি প্রতিবেদনে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

যে সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল তারা হলেন— চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক এসআই লিয়াকত আলী এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাবেক এসআই নজরুল ও মো. হান্নান। এছাড়া এস এম সাহাবুদ্দিন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমান নামে আরও চার জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে লিয়াকত আলী কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক থাকা অবস্থায় সেনা কর্মকর্তা ‘হত্যাকাণ্ডে’ জড়িয়ে বরখাস্ত হন। ওই মামলায় তিনি এখন বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার একটি কারখানার মালিক এস এম জসিম উদ্দিন মামলার আরজিতে উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে তার কারখানায় চুরির ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডিবি’র তৎকালীন এসআই লিয়াকত আলী। ২০১৪ সালের ১৪ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জসিমকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মামলা সঠিকভাবে তদন্তের জন্য ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য চাপ দেন।

জসিম উদ্দিন রাজি না হলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে তাকে আটক করে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেন। তাকে পতেঙ্গা থানায় নিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে মারধর করেন, ইলেট্রিক শক দেন। পরে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। জসিম ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে আড়াই লাখ টাকা দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার আরজিতে জসিমের দাবি— টাকা দেওয়ার পরও তাকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার একটি ভুয়া পরোয়ানার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস জেল খেটে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের সবাই তাকে নির্যাতন, ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে টাকার আদায় এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামরা পুনঃতদন্তের আদেশ দেওয়া সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বখতেয়ার উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘যে ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ আমলে নেননি, পুনঃতদন্তের আদেশেও তাদের বিষয় নেই। কেবল যাদের বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল এবং তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।’

বিজ্ঞাপন

তবে বাদীর আইনজীবী জুয়েল দাশ জানিয়েছেন, নারাজি আবেদনে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনের মামলার আসামি হয়ে গত ১২ মে থেকে কারাগারে আছেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন