বিজ্ঞাপন

বায়ু দূষণের ফলে গুরুতর মানসিক রোগ: গবেষণা

August 28, 2021 | 12:08 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: গবেষণায় দেখা গেছে বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসলে এতটাই গুরুতর মানসিক সমস্যা দেখা দেয় যে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

বিজ্ঞাপন

লন্ডনবাসী ১৩ হাজার জনের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে— নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের সঙ্গে তুলনামূলক সামান্য বাড়তি সংস্পর্শেই কমিউনিটি ভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি বাড়ে ১৮ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, শুধু লন্ডনেই না বিশ্বের প্রায় সব বড় শহরের ক্ষেত্রেই এই ফলাফল প্রযোজ্য হতে পারে। লাখো মানুষকে বাঁচাতে হলে তাই বায়ু দূষণ দূর করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জোয়ান নিউবারি বলেন, ‘চাইলে বায়ু দূষণ রোধ করা যায় এবং জনসংখ্যার বড় অংশকে দূষণ অঞ্চল থেকে দূরে রাখা যায়। এর জন্য নানারকম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন প্রযুক্তির সাহায্যে তুলনামূলক কম দূষিত বায়ু নির্গমণ হয় এমন অঞ্চল সম্প্রসারণ করা যায়। বায়ু দূষণের আওতায় আসা প্রতিটি ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেয়ে সেটি সহজ।’

গবেষণায় হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা, কমিউনিটি ডাক্তার এবং নার্সদের কাছে সেবা নেওয়ার সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। দেখা গেছে শুধুমাত্র একটি দূষণকারী বস্তু কমালেও অসুস্থতার হার অনেকাংশেই কমে যায় এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার খরচ বছরে কয়েক লাখ মিলিয়ন ডলার কমে যাবে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী কিংস কলেজ লন্ডনের ইওনিস বাকোলিস বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লন্ডনে বায়ু দূষণের মাত্রা কমলেও তাকে নিরাপদ বলা যাবে না। এমনকি বায়ু দূষণের হার একদম কম হলেও প্রভাব একই থাকে।’

গবেষণাটিত্র দেখা গেছে যে, বায়ু দূষণের ফলে ছোট ছোট হতাশা এবং উদ্বেগ বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দূষণাঞ্চলে নানারকম মানসিক রোগের প্রকোপ এবং আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, বায়ু দূষণ বুদ্ধিমত্তার 'ব্যাপক' হ্রাস ঘটায় এবং এটি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের সঙ্গেও যুক্ত। মানবশরীরে বায়ু দূষণের প্রভাব সংক্রান্ত ২০১৯ সালের একটি বৈশ্বিক পর্যালোচনা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বায়ু দূষণ মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দাদের ওপর পরিচালিত ব্রিটিশ সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণায় তারা বাসিন্দাদের প্রথমবারের মত মানসিক রোগ কবে ধরা পড়ে সেই খোঁজ নেন। সেই সঙ্গে উচ্চমানের যন্ত্র ব্যবহার করে তাদের বাসস্থানের চারপাশের বায়ু দূষণ পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখেন।

পরীক্ষাঞ্চলের প্রতি কিউবিক মিটারে ১৮ থেকে ৯৬ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড পাওয়া গেছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, ১৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি দুষণের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার হার বেশি। এক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা বাড়ে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত এবং কমিউনিটিভিত্তিক চিকিৎসা নেওয়ার হার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড মূলত নির্গমন হচ্ছে ডিজেল চালিত যানবাহন থেকে। আর অল্পসংখ্যক আসছে ফসিল ফুয়েল থেকে।

এ ছাড়াও দেখা গেছে ৯ থেকে ২৫ মাইক্রোগ্রাম মাত্রার ক্ষুদ্র কণার সংস্পর্শে আসা এলাকায় হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়ে ১১ শতাংশ এবং কমিউনিটিভিত্তিক চিকিৎসা নেওয়ার হার বাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত।

বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা নেওয়া এসব রোগীদের প্রথমবার চিকিৎসা নেওয়ার সাত বছর পর আবারও তাদের মেডিকেল সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেন। এতে দেখা যায় যে তাদের অসুস্থতার সঙ্গে তখনও অর্থাৎ সাত বছর পরও বায়ু দূষণের সংযোগ রয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বায়ু দূষণের সংস্পর্শ ছাড়া অন্য বিষয় যেমন, বয়স, লিঙ্গ, জাতি বা তাদের বসবাসকারী এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ইত্যাদি খুঁজে দেখা হয় নি, তাদের অসুস্থতার সঙ্গে যার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষকদের দাবি মানুষের গণহারে অসুস্থতার পেছনে যেসব রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করে সেগুলোর মধ্যে নিরসনযোগ্য যেগুলো তা কমাতে পারলে মানুষের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি, খরচ সবই কমায়।

বায়ু দূষণের সঙ্গে মানসিক অসুস্থতার সম্পর্ক কী?

এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও এই গবেষণা আরও অনেক গবেষণার দুয়ার উন্মোচন করেছে বলে গবেষকদলের দাবি। তাদের মতে, বায়ু দূষণের অনেক উপকরণের মধ্যে নানাধরণের ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে যা সাইকোটিক ও মুডজনিত ডিসঅর্ডার ঘটায়।

সারাবাংলা/আরএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন