বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি

August 29, 2021 | 6:36 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিরাজগঞ্জ: কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা একদিনের ব্যাবধানে বেড়েছে আরও ৮ সেন্টিমিটার।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সারাবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন।

যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও চলনবিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ ও গো-খামারিরা। এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর জানিয়েছে, বন্যার্তদের জন্য জেলা শহর ও পাঁচটি উপজেলায় মজুদ রাখা হয়েছে ১৭৬ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে সাত লাখ নগদ টাকা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন অব্যাহত থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষেরা। এছাড়া ভীতিও কাজ করছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে। পানি বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন জেলার গো-খামারিরাও।

সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি

বিজ্ঞাপন

এদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ সারাবাংলাকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ১৪ আগস্ট থেকে শুরু করে রোববার পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নদী তীরবর্তী আরও কিছু নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা। বন্যা কবলিত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত, বীজতলা, আখ, পাট, তিল ও সবজিবাগানসহ বিভিন্ন ফসল।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে যমুনার পানি। বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।’ তবে পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বন্যার তেমন কোনো ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘যমুনা নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর এই পাঁচটি উপজেলায় একশ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ করে নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলায় ৭৬ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে। কোনো এলাকায় ত্রাণের প্রয়োজন আছে কি না তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন