বিজ্ঞাপন

ওই কফিনে জিয়ার লাশ ছিল, একটা প্রমাণ দেখান— ফখরুলকে কাদের

August 31, 2021 | 8:53 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হকের মরদেহের মতো আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলে যে কফিনে করে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছিল বলে বলা হয়, সেই কফিনে আদৌ কোনো মরদেহ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কৃষক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ওই কফিনে জিয়াউর রহমানের মরদেহ ছিল— বিএনপির এমন দাবির সপক্ষে কোনো একটি প্রমাণ হাজির করতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল বলেছেন, জিয়াউর রহমান যখন আততায়ীর হাতে নিহত হন, ওই সময়কার সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ নিজে জিয়াউর রহমানের মরদেহ বহন করেছিলেন। মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কফিন দিয়েই কি প্রমাণ হয় যে ভেতরে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল? আমি ফখরুল সাহেবের কাছে দুই বছর ধরে একটা কথাই বলে আসছি— চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গুনিয়া হয়ে যে লাশ ঢাকায় এলো, এর একটি ছবি দেখান! তা না হলে কীভাবে প্রমাণ দেবেন যে লাশ ছিল? আপনাদের তো যুক্তি নেই। একটাই কথা বলেন— ওবায়দুল কাদের মিথ্যাচার করছেন। কিন্তু আমাদের একটি প্রশ্নরেও সঠিক জবাব তিনি দেননি।

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, গতকালও প্রশ্ন করেছিলাম— সার্কিট হাউজ থেকে লাশটা রাঙ্গুনিয়ায় কে নিলো, বলুন? লাশ কোথায় পাবেন, লাশ তো পুড়িয়ে ফেলেছে। পাকিস্তানেও বিমান দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল জিয়াউল হকের লাশ পুড়ে গিয়েছিল। অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল। সেখানেও ফয়সাল মসজিদের সামনে জিয়াউল হকের কফিন রেখে বিশাল জানাজা করা হয়েছে। ওই কফিনেও কিন্তু জিয়াউল হক ছিলেন না। এই কফিনেও জিয়াউর রহমান নেই। এই কথা বললেই ফখরুল সাহেব বলেন, মিথ্যাচার করছি। তাহলে লাশের একটি ছবি দিন, কোনো একটি প্রমাণ দেখান!

আরও পড়ুন- জিয়ার মরদেহ এরশাদ নিজে বহন করেছেন: মির্জা ফখরুল

বিজ্ঞাপন

গুম-খুন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার সরকার গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ জানে, এ দেশে গুম-খুনের রাজনীতি চালু করেছে বিএনপি। ঢাকা সিটি ছাত্রলীগের নেতা মাহফুজ বাবু কোথায়? রাতের অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছে জিয়াউর রহমানের বাহিনী। চট্টগ্রামে টর্চার করতে করতে মেরে ফেলা হয়েছে। তার লাশ আমরা দেখিনি। আন্তর্জাতিক একটি মিডিয়াতেও দেখলাম ফখরুল সাহেব গুমের বিরুদ্ধে বলছেন। কিন্তু ২০০১ সালের পর আপনারা কত হাজার মানুষকে গুম করেছেন? জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ওই নভেম্বর মাসে সেনাবাহিনীর কত অফিসারকে গুম করে হত্যা করেছেন? সেই ইতিহাস কি মুছে গেছে? গুমের ইতিহাস তো আপনাদের।

মামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়ানোদেরও বিএনপি গুমের তালিকায় নিয়ে এসেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকে নিজে নিজে গুম হয়ে যায়। নানা কারণে গুম হয়ে যায়। অনেকে মামলা থেকে, খুন-সন্ত্রাস থেকে বাঁচার জন্য নিজে নিজে গুম হয়ে যায়। অনেকে আবার পালিয়ে বিদেশে চলে যায়, পথে ট্রলারডুবিতে হয়তো সগরেই সমাধি হয়। সবশেষ ইতালিকে যে ট্রলার ধরা পড়েছে, সেখানেও বাংলাদেশের নাগরিক আছে। আর ফখরুল সাহেবের গুমের তালিকাতে এদের নামও আছে!

বিজ্ঞাপন

গুম শব্দটিকে দেশের মানুষের সঙ্গে বিএনপিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে আপনাদের গুমের শুরু। বেগম জিয়ার আমলে সেটি আরও ১০ গুণ বেড়েছে। ‍গুম শব্দটিতে আপনারাই চালু করেছেন। এই শব্দের পরিচিতি ও বাস্তবতা দিয়েছেন আপনারাই।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য পৃথিবীর বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা হত্যার শিকার হয়েছেন। কোথাও রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিবারের সব সদস্যদের হত্যা করা হয়নি। নারী-শিশুকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা কেবল ক্ষমতা দখলের জন্য ছিল না। এটি ছিল ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। পাকিস্তান ও তাদের পশ্চিমা মিত্র যারা স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, তারাই ষড়যন্ত্র করে এই দেশের মানুষকে ব্যবহার করে সেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম চক্রান্তকারী উল্লেখ করে হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিজেই প্রমাণ রেখে গেছেন। নিজে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত না থাকলে কেন ইনডেমনিটি আইন করে এই বিচার কাজ বন্ধ করলেন? কেন এই খুনিদের বিদেশে পুনর্বাসন করে পুরস্কৃত করলেন? যদি জিয়াউর রহমান পূনর্বাসিত না করে তাদের বিচারের আওতায় আনতেন, তাহলে অন্যদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে মূল কারিগর গিসেবে তার (জিয়াউর রহমান) নাম চলে আসত। সে যে মূল চক্রান্তকারি সেটা বের হয়ে আসতো।”

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এ সময় বক্তব্য রাখেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন