বিজ্ঞাপন

সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো আন্দোলন ডিসেম্বরের মধ্যেই

September 1, 2021 | 10:38 am

ড. কামাল হোসেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী, অন্যতম সংবিধান প্রণেতা, বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী ও গণফোরামের সভাপতি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দলকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে ভরাডুবির পর সেই জোটের কার্যক্রমও স্তিমিত হয়ে আসে। এর মধ্যে নিজের দল গণফোরামেও দেখা দেয় বিভক্তি। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে বলতে গেলে সব ধরনের কার্যক্রম থেকেই দূরে সরে ছিলেন ড. কামাল। সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি অনেকটাই প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছিলেন বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

গত কিছুদিন ধরে ফের সরব হয়েছেন ড. কামাল হোসেন। সরকারবিরোধী অবস্থান থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন সরকারকে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সারাবাংলা ডটনেটের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বর্ষীয়ান এই আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ বলছেন, দেশের জনগণ নিজেদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারসহ মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে মাঠে নামলে সরকারের পক্ষে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে। তবে সরকার মেয়াদ পূরণ করতে পারলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে শিগগিরই সরকারবিরোধী কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদও জানালেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয়, নিজেদের সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ড. কামাল হোসেন। মতিঝিলের চেম্বারে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আজমল হক হেলাল। ছবি তুলেছেন সারাবাংলা ডটনেটের সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান। ড. কামালের সঙ্গে সারাবাংলার একান্ত আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য—

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: একাদশ জাতীয় সংসদ এরই মধ্যে ১৩টি অধিবেশ পার করেছে। বুধবার ( সেপ্টেম্বর) চতুর্দশ অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। বর্তমান এই সংসদকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

. কামাল হোসেন: বর্তমান সংসদ অকার্যকর। এই সংসদে অর্থবহ কোনো আলোচনা নেই। সংসদ কেবল আছে নামকাওয়াস্তে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই সরকারকে গণবিচ্ছিন্ন অভিহিত করে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো আপনাদের কোনো কর্মসূচি দৃশ্যমান নয়। আপনাদের দাবি কীভাবে আদায় করবেন?

. কামাল হোসেন: বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর আলাপ-আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে অচিরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে  সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আশা করি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কিছু একটা করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেলা ও থানা পর্যায়ে তো বটেই, গ্রাম-গঞ্জেও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণই হচ্ছে ক্ষমতার উৎস। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তাই জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। সরকার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে না দিলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।

বিজ্ঞাপন
সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো আন্দোলন ডিসেম্বরের মধ্যেই

সারাবাংলা: আপনাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলবেন?

ড. কামাল হোসেন: গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করা হবে। পরিস্থিতি বলে দেবে আন্দোলন কেমন হবে এবং কোন দিকে মোড় নেবে। তবে জনগণকে নিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে এক দফা দাবিতে (সরকারের পদত্যাগ) আন্দোলন শুরু হতে পারে। আন্দোলন শুরুর আগে জেলা-উপজেলা ও গ্রাম-গঞ্জে জনগণের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হবে। দেশের সম্পদ জনগণের জানমালের ক্ষতি করে কোনো কর্মসূচি অর্থাৎ জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন আমরা করব না। সরকারকে দুর্বল করার আন্দোলন আমরা চালিয়ে যাব। সরকারের জনস্বার্থবরোধী কার্যক্রম আমরা শ্বেতপত্র আকারে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দেবো।

সারাবাংলা: রাজপথের বড় বিরোধী দল বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির কেমন ভূমিকা থাকা উচিত বলে মনে করেন?

ড. কামাল হোসেন: বিএনপি রাজনৈতিকভাবে মাঠে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছে না। বিএনপি কার্যকর ভূমিকা রাখলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতো। সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকলে ভয়-ভীতি থাকবে। তবে সেই ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। ভয় ভেঙে কাজ করতে তারা পারছে না। অথচ বর্তমান সরকারের চেয়ে অনেক বড় শক্তিশালী স্বৈরাচার সরকারের রক্তচক্ষু, পুলিশ-আর্মির নির্যাতন উপেক্ষা করে দাবি আদায় করা হয়েছে। সরকারকেও হটানো হয়েছে।

সারাবাংলা: আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো ভাবনা রয়েছে কি? বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনও হবে। ওই নির্বাচনে এককভাবে নাকি জোটগতভাবে অংশ নেবেন?

ড. কামাল হোসেন: গত নির্বাচনের মতো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন দেশে আর হবে না, হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা কিংবা কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে যেমন আমরা আন্দোলন করব, তেমনি কার্যকর একটি নির্বাচনের জন্যও রাজপথে আন্দোলন হবে। প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালানো হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি বলে দেবে আমরা কী করব আর কী করব না।

সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো আন্দোলন ডিসেম্বরের মধ্যেই

সারাবাংলা: দীর্ঘ দিন ধরেই জাতীয় এক্যফ্রন্ট অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। ঐক্যফন্টকে কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ নেবেন?

ড. কামাল হোসেন: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী নির্বাচনেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই ঐক্যফ্রন্টের যারা এখন কিছু না বুঝে সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন, তারাও সম্পৃক্ত হতে পারেন। শুধু জামায়াত (জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ) ছাড়া আর সব রাজনৈতিক শক্তিকে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

সারাবাংলা: হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে স্থান দেবেন?

ড. কামাল হোসেন: এককথায় এর উত্তর দেওয়া যাবে না। যেসব দল আমাদের সঙ্গে আসতে আগ্রহ দেখাবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। আলোচনা এবং তাদের স্বভাব চরিত্র বুঝে শুনে তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সারাবাংলা: গণফোরাম তো দুই ভাগে বিভক্ত। গণফোরাম একীভূত করার কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি?

ড. কামাল হোসেন: গণফোরাম যারা ভেঙেছে তারা তাদের ভুল বুঝে আবার ফিরে আসার জন্য এগিয়ে এলে তাদের জন্য দরজা খোলা থাকবে।

সারাবাংলা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

. কামাল হোসেন: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন