বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক কারণে হিন্দুদের ওপর হামলা হবে: কাদের

ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ | ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

‘রাজনৈতিক কারণে চলতি বছর এবং সামনের বছরগুলোতে হিন্দুদের ওপর হামলা হবে’ বলে মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকালে রামকৃষ্ণ মিশনে প্রস্তাবিত বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ শংকা প্রকাশ করেন।

ওবায়দুল কাদের শংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘মাঝে মধ্যেই হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হয়। আগে যেগুলো হয়েছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু সবাই একটা কথা মনে রাখবেন, সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ওপর হামলা হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, `একটি মহল মনে করছে, এ ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণিত করে ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা যেতে পারে। তাই হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে এ ধরনের হামলা আরও হবে। কিন্তু সে যে দলেরই হোক না কেন— কেউই পার পাবেন না। যারা ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষক তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, কারোরই  বন্ধু হতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত মাইনোরিটি ইনফিওরেটি কমপ্লেক্সে ভুগছে। তাই এ ধরনের কাজ করছে। এরা সন্ত্রাসী। আমরা নাসিরনগরে হামলার বিচারকাজ শুরু করেছি। বাকিগুলোরও হবে। হিন্দুরা নিজেদের দুর্বল ভাবেন। উইকনেস ইজ ডেথ। আপনাদেরও সমান অধিকার। আঘাত করলে আপনারাও পাল্টা আঘাত করেন। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ান। সামনে নির্বাচন। তারা আবারও ভায়োলেন্স করবে। তারা এখন মুখোশ পড়েছে। মায়া কান্না কাঁদছে।’

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৯৬ সালে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছিল— তখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘পাগল ও শিশু ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলে না’।” এ সময় ওবায়দুল কাদের  বলেন, ‘এখন কী শুনি মন্থরার মুখে!’

সেতুমন্ত্রী বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছেন, ‘২০১৪ সালের মতো নির্বাচন দেওয়া যাবে না।’ কিন্তু শেখ হাসিনা ওই সময় তাকে (খালেদা জিয়া) ডেকেছিলেন। তিনি আসেন নাই। উল্টা টেলিফোনে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। নির্বাচনের ট্রেন তো আর কারো জন্য থেমে থাকবে না।”

আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে সকল ক্ষমতা দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার সে সময় সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে। রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। এই ব্যবস্থাতেই নির্বাচন হবে। এ মুহুর্তে এটাই শেষ কথা। অন্যকোনো দুঃসপ্ন দেখে এখন আর লাভ নেই। নির্বাচনে কে এল, আর কে এল না, এ দায় আওয়ামী লীগের না। আপনারা (বিএনপি) আসলে আসেন, না আসলে নাই। যদি মনে করেন এর ব্যত্যয় ঘটবে, তাহলে ইউ আর লিভিং ইন ফুলস প্যারাডাইস।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকার এ ভবন নির্মাণে এগিয়ে আসাতে তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনারা (রামকৃষ্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষ) শেখ হাসিনার সরকারের কাছে এই ভবন নির্মাণে সাহায্য চাইলে উনি তো আপনাদের ফিরিয়ে দিতেন না। আপনাদের তাহলে মাত্র ৬ কোটি টাকার জন্য আর ভারতের কাছে হাত পাততে হতো না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন,  ‘বর্তমানে ইন্দো-বাংলা সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। আর ভারত বাংলাদেশের সব ধরনের উন্নয়নে সব-সময় পাশে থাকবে। ভারত বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারত সরকারের অর্থায়নে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১১০০ কোটি টাকার ৬৫টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ভারত বাংলাদেশেরর উন্নয়ন খাতে ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যা অন্য যেকোনো দেশের চাইতে অনেক বেশি। এ অবদান বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্বের ভিত আরও দৃঢ় করবে বলে আমি মনে করি। ৭১ সালে ভারতীয় সেনা এবং বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। নিজেদের রক্ত দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামকৃষ্ণ মিশন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি বিচারপতি শ্রী গৌর গোপাল সাহা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

এর আগে ভারত সরকারের অর্থায়নে রামকৃষ্ণ মিশনে প্রস্তাবিত বিবেকানন্দ ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী। পাশাপাশি সেখানে সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রবোধন-এর উদ্বোধন করেন কাজী ফিরোজ রশিদ। এদিকে ২০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী সারোয়ার কায়ানাত মো. নূর।

সারাবাংলা/এএইচ/আইজেকে

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন