বিজ্ঞাপন

মাকে পেতে হাইকোর্টে ৩ সন্তান

September 14, 2021 | 10:03 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে মাকে আটকে রাখার অভিযোগে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন ছোট তিন ভাই-বোন। আদালত রিটের শুনানি নিয়ে মায়ের সঙ্গে তিন ভাই-বোনের সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া এবং মা আছিয়া আক্তারকে কেন ‘অবৈধভাবে’ আটক রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মাকে (আছিয়া আক্তার) সঙ্গে নিয়ে বড় ছেলে রবিউল মোর্শেদ মিলনকে হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আছিয়া আক্তারকে আটকে রাখার বিষয়ে রবিউল মোর্শেদ মিলনকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রিটের পক্ষের আইনজীবী তোফিক ইমাম আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে ছোট ভাই রাফসান মোর্শেদ ও পারভীন আক্তারসহ দুই বোনের করা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তোফিক ইমাম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী গালিব আমিদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে আইনজীবী তৌফিক ইমাম জানান, মিরপুরে আছিয়া আক্তার নামের এক বৃদ্ধ নারীকে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগে তার তিন ছেলেমেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই নারীকে এককভাবে আটকে রাখার এবং অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের দেখা করার সুযোগ না দেওয়া এবং কেন আছিয়া আক্তারকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে আটককারী ছেলেসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে বড় ছেলে রবিউল মোর্শেদ মিলনকে আগামী ২৬ শে সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় আছিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনজীবীরা জানান, রাজধানীর মিরপুরের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা আছিয়া আক্তারের চার সন্তান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তার বড় ছেলে ২০১৯ সালের ২৭ মে ছোট ছেলে রাফসান মোর্শেদের বাসা থেকে তার অগোচরে মাকে নিজ হেফাজতে নিয়ে যান এবং তাকে অন্যান্য ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে গৃহবন্দি করে রাখেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর তিন ভাইবোনকে তাদের মায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই দেখা করতে দেয়নি বরং মাকে দেখার চেষ্টা করলে তাদের গেট থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন তারা নিরুপায় হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পুলিশের সহায়তায় গত দুই বছরে মাত্র দুইবার দেখা করার সুযোগ পান। এরপর থেকে বড় ভাই অন্য ভাই-বোনদের মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেননি।

ইতোমধ্যে রিট আবেদনকারীরা জানতে পেরেছেন যে, তার মা অত্যন্ত অসুস্থ এবং তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তারা বিষয়টি পুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

আজ ওই রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আছিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে রবিউল মোর্শেদ মিলনকে হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন