বিজ্ঞাপন

ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

September 15, 2021 | 2:55 am

স্পোর্টস ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের উদ্বোধনী দিনেই গ্রুপ 'ই'-এর ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে আতিথ্য বার্সেলোনার নেয় বায়ার্ন মিউনিখ। রবার্ট লেভান্ডোফস্কির দুটি এবং থমাস মুলারের এক গোলে স্বাগতিক বার্সেলোনাকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।। লিওনেল মেসিকে ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো কাতালান ক্লাবটিকে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নতুন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে বড় জয়ে যাত্রা শুরু করল বাভারিয়ানরা।

ন্যু ক্যাম্পে এদিন বায়ার্নকে ম্যাচের ৩৪ মিনিটের মাথায় দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে গোল করে বায়ার্নকে লিড এনে দেন থমাস মুলার। ইউরোপিয়ান সর্বোচ্চ মর্যাদাকর এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বার্সার বিপক্ষে মুলারের চেয়ে বেশি গোলের দেখা পাননি আর কেউই। বার্সার বিপক্ষে ছয় ম্যাচ খেলে মুলারের গোল সংখ্যা ৭টি।

বিজ্ঞাপন

ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে এবং ৮৫তম মিনিটে দুটি গোল করে বায়ার্নের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন রবার্ট লেভান্ডোফস্কি। এতেই নিজের শেষ ২৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে লেভার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে। বায়ার্নের হয়ে টানা ১৮টি ম্যাচে গোল করলেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার। এই সময়ে তার গোল সংখ্যা ২৯টি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শেষ ৩৩টি ম্যাচে লেভার গোল সংখ্যা এতে দাঁড়িয়েছে মোট ৩৪টিতে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের উদ্বোধনী দিনে গোটা বিশ্বের নজর ছিল বার্সেলোনা ও বায়ার্নের মধ্যকার ম্যাচের উপর। ইউরোপিয়ান ক্লাসিকোর দুর্দান্ত ম্যাচটিতে খাতা কলম এবং মাঠের পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল বাভারিয়ানরাই। তবে প্রতিপক্ষ দলটি যখন বার্সেলোনা তখন পরিসংখ্যান কিংবা অতীত তেমন পার্থক্য গড়ে দিতে পারে না।

তবে ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনাকে ম্যাচের শুরু থেকেই বায়ার্ন মনে করিয়েই দিচ্ছিল যে এই ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিতেই তারা এসেছে। শেষ পর্যন্ত ঘটেছেও সেটাই। শুরু থেকে বার্সার ওপর চাপ ধরে রেখে একের এক আক্রমণ সাজাতে শুরু করে বাভারিয়ানরা। তবে বার্সাকে একা হাতেই ম্যাচে ধরে রাখেন গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান।

বিজ্ঞাপন

ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

১৯তম মিনিটের মাথায় বেনজামিন পাভার্ডের দুর্দান্ত এক ক্রস ডি বক্সে পেয়ে যান লেরয় সানে। বল পেয়ে দারুণ এক শট করেন গোল বরাবর তবে তার শট সার্জি রবের্তোর গায়ে লেগে দিক পাল্টে যাচ্ছিল জালের দিকেই কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সার ত্রাতা হয়ে আসেন স্টেগান। এক হাত দিয়ে কোনো রকমে সানের শট ফিরিয়ে বার্সাকে ম্যাচে ধরে রাখে এই জার্মান গোলরক্ষক।

বিজ্ঞাপন

এবারে বার্সার রক্ষণে ফাটল ধরান থমাস মুলার। ২৭তম মিনিটের মাথায় জামাল মুসাইলাকে দারুণ এক পাস দেন তিনি কিন্তু তার পাস স্লাইড করে বিপদমুক্ত করেন জেরার্ড পিকে। কিন্তু আর বেশি সময় ম্যাচে টিকে থাকতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। ৩৪তম মিনিটে এসে লেরয় সানে ফাঁকায় থাকা থমাস মুলারকে পাস দেন বল। দুই একটি টাচ দিয়ে বল নিয়ে ডি বক্সের ঠিক সামনে থেকে জোরালো শট নেন মুলার, তার শট এরিক গার্সিয়ার গায়ে লেগে খানিকটা দিক পাল্টে জালে জড়ালে তা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর উপায় ছিল না স্টেগানের।

ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

প্রথমার্ধে মুলারের করা ওই একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে বায়ার্ন। বিরতির পর আরও জেঁকে বসে বার্সার ঘাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১১তম মিনিতের মাথায় বায়ার্সের লিড দ্বিগুণ করেন লেভান্ডোফস্কি। বার্সার মধ্যমাঠ ভাঙা বল পেয়ে দারুণ এক শট নেন জামাল মুসাইলা। কিন্তু তার শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে জড়ান লেভা। আর তাতেই বায়ার্ন এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।

গোটা ম্যাচে ৪৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখা বার্সা কেবল ৪টি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে আর শট নিতে পারে মাত্র ৫টি। যেখানে ৫২ শতাংশ বল দখলে রেখে বায়ার্নের গোলের সুযোগ তৈরির সংখ্যা ১৩টি আর শটের সংখ্যা ১৭টি। অর্থাৎ পরিসংখ্যান বলেই দিচ্ছে এই ম্যাচে বায়ার্নের কাছে তেমন পাত্তায় পায়নি কাতালান ক্লাবটি।

ন্যু ক্যাম্পেই বার্সাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

ম্যাচে বার্সার সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ফিলিপ কুতিনহোর কাছ থেকে। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে আক্রমণে উঠে দারুণ এক শট নেন কুতিনহো কিন্তু তার সজোরে নেওয়া শট গোলপোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ম্যাচের বাকি সময়টাও বায়ার্নের আক্রমণের পর আক্রমণ দিয়েই শেষ হয়। দারুণ আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর বাভারিয়ানরা। অবশেষে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে এসে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান লেভা। ডি বক্সের ছয় গজের ভেতর থেকে সার্জ গ্ন্যাব্রির দুর্দান্ত এক শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে তা পেয়ে যান লেভা। আর জেরার্ড পিকে ট্যাকেলের ভেতরেও জায়গা করে নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে বায়ার্নকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন পোলিশ এই গোলমেশিন।

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন