বিজ্ঞাপন

বাড়িভাড়া দেওয়া ও নেওয়ার আগে যেসব শর্ত জানা জরুরি

September 17, 2021 | 10:39 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাড়িভাড়া দেওয়া এবং নেওয়ার আগে কিছু শর্ত জানা থাকলে উভয়পক্ষই ছোটখাটো ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পারেন। শুধু তাই নয়, নিজেদের অধিকারগুলোও বাস্তবতায় রূপ দিতে সক্ষম হবেন। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সারাবাংলার আইন বিষয়ক নিয়মিত আয়োজন ‘সারাবাংলা লিগ্যাল চেম্বারস’—এ যুক্ত হয়ে আইনজীবীরা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এ পর্বে আলোচনার বিষয় ছিল ‘বাড়িওয়ালা কি চাইলেই কি ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারেন ?’। বরাবরের মতোই অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইফ্ফাত গিয়াস আরেফিন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক রুশদ হক।

বিজ্ঞাপন

ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, যেকোনো জিনিস লিখিত থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।  সেটা বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়া দুই পক্ষের জন্যই নিরাপদ এবং ভালো। এটা লিখিতভাবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা যায়। এতে সুবিধা হলো, কোন মাসে ভাড়া শুরু হল, কত দিনে ভাড়াটিয়া চলে যাবে এসব শর্তগুলো জানা থাকবে। সবকিছু লেখা থাকে। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে লিখিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক রুশদ হক বলেন, যেকোনো চুক্তির আগে আইনজীবীকে দিয়ে দেখে নেওয়া উচিত। এটা কোনো কঠিন চুক্তি নয়।  খুব বড় আইনজীবীর কাছে যেতে হবে তাও না। চুক্তিতে মেয়াদের কথা উল্লেখ থাকতে হবে। কত টাকায় দিচ্ছেন, নিচ্ছেন, কতদিন পর্যন্ত থাকবেন, কত টাকায় নিয়েছে এবং ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। সম্প্রতি প্রশাসন থেকে একটা নোটিশ দিয়েছে। ভাড়াটিয়ার এনআইডিসহ কে কে থাকেন তাদের তথ্য জমা দেওয়ার জন্য। এতে করে ভাড়াটিয়ার প্রকৃত নাম-ঠিকানা রাখা হয়। এরপর থাকে বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল, অন্যান্য সার্ভিস চার্জ কে কিভাবে দিবেন, তা আলাদাভাবে থাকা জরুরি। আরেকটি বিষয় খুব জরুরি, ভাড়াটিয়া ছেড়ে দিতে চাইলে, বা বাড়িওয়ালা উচ্ছেদ করতে চাইলে নোটিশ দিতে হবে। সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। দুই বছর পর পর ভাড়া বাড়বে কি না, ছোটখাটো কাজ কে করবে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে।

আলোচকেরা এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, বাড়িভাড়া বাড়ানোর জন্য একটি আইন রয়েছে। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, বাড়িভাড়া মানসম্মত হতে হবে। সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করে দেওয়া অনুসারে ভাড়া বাড়াতে হবে। তবে অনেক সময় ফলো করা হয় না। কারণ হিসাবে বাড়িওয়ালারা উল্লেখ করেন, বাড়ির কাজের উপর নির্ভর করে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, ২ বছর পর পর ১০% এর বেশি বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। তবে বাড়ির বাজার মূল্য ও ট্যাক্স বৃদ্ধি পেলে সেই ক্ষেত্রে ১৫% গ্রোসিং হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বাড়িভাড়া একসঙ্গে ১ মাসের বেশি রাখতে পারবেন কি না? এই প্রশ্নের উত্তরে আলোচকরা জানান, আইন অনুসারে এক মাসের বেশি ভাড়া কেউ রাখতে পারবেন না। যদি কেউ নিয়ে থাকেণ তাহলে বাড়ি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করলে তা ফেরত পাবেন।

বাড়ি মেরামত বিষয়ে আলোচকরা বলেন, ছোটখাটো মেরামতের জন্য ভাড়াটিয়াকে মূল্য দিতে হবে। তবে বড় ধরনের কিছু হলে সেটা বাড়িওয়ালাকে ঠিক করে দিতে হবে। তবে বাড়িওয়ালা যদি ঠিক না করে দেন, তাহলে বাড়ি নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ করলে দ্রত রেমেডি পাবেন। ভাড়াটিয়াকে চাইলে যখন-তখন উচ্ছেদ করতে পারবেন না। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ করতে পারবে। এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে গিয়ে ভাড়াটিয়া আপিল করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

বাড়িওয়ালা যদি উঠিয়ে দিতে চায়, আপনি টাকা যেভাবে দেওয়ার দরকার সেভাবে দেবেন। টাকা হাতে নিতে না চাইলে পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে তার ঠিকানায় পোস্ট অফিসে গিয়ে মানিঅর্ডার করবেন। সেটা যদি রিফান্ড করেন, ধারা ২৩ অনুসারে কন্ট্রোলের কাছে গিয়ে মামলা করবেন। তখন বাড়ি নিয়ন্ত্রক আদেশ দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংককে টাকা জমা দিতে। যে কয়বার চালান দিয়েছেন তার রশিদ জমা দিতে হবে।

সারাবাংলা/এআই/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন