বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়ায় বায়ু দূষণ: প্রেসিডেন্ট দোষী সাব্যস্ত

September 17, 2021 | 11:19 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বায়ু দূষণ রোধে প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোসহ শীর্ষ কর্তাদের গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে দেশটির একটি আদালত।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে জাকার্তার অধিবাসীদের পক্ষে দায়ের করা জনস্বার্থ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি কয়েকদফা পেছানোর পর বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, এক কোটি মানুষের শহর জাকার্তা সব সময় বিষাক্ত গ্যাসযুক্ত ঘনধোঁয়ায় ঢাকা থাকে। যার মূল কারণ রাস্তায় মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন এবং ফিল্টারবিহীন কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলাফলে, শহরটির বায়ুমান পরিস্থিতি অধিবাসীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বয়ে আনছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে জাকার্তার অধিবাসীদের গড় আয়ু কমেছে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমান মাত্রা অনুযায়ী জাকার্তার বাতাস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অন্তত ছয়গুণ বেশি দূষিত।

হতাশ জাকার্তাবাসী ক্রমাগত বায়ু দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এতটাই চিন্তিত ছিল যে বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রপতি, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার শুনানিতে বলা হয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, বায়ু দূষণ হাঁপানি এবং হৃদরোগ এবং কম আয়ুর জন্য দায়ী। জাকার্তায় দ্রুত নগরায়ণ, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, উন্মুক্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতাসের নিম্নমানের জন্য দায়ী।

জাকার্তা শহর কর্তৃপক্ষ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। এ ব্যাপারে গভর্নরের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা ইরভান পুলুনগান বলেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও উন্নত বায়ুমানের মধ্যে বাস করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিতের জন্য যে মামলা হয়েছে, তার প্রতি কর্তৃপক্ষের সমর্থন রয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সকল অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে  কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক রায়ে জাতীয় বায়ুমান পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রেসিডেন্টকে ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে, পর্যায়ক্রমিকভাবে পুরাতন যানবাহনগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা এবং শহরের বাইরের বায়ুমান পরীক্ষা করে জনসম্মুখে তা  প্রকাশ করতে প্রাদেশিক সরকারের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলার একজন বাদী গবেষক খালিশাহ খালিদ। জাকার্তার দূষিত বায়ুর শিকার তার দশ বছরের ছেলে। যে ক্রনিক অ্যালার্জিতে ভুগতো এবং তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ত। বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার ছেলে যেন মুক্ত আর পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠে এবং আমি নিশ্চিত অন্যান্য বাবা-মাও এটাই চান।'

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বায়ু দূষণ ব্যবস্থাপনার পরিচালক আইকিউ এয়ার দাসরুল ছানিয়াগো রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, 'আদালত মন্ত্রণালয়কে বাতাসের মান এবং নির্গমন পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। জাকার্তা, ব্যান্টেন এবং বান্দুংয়ের মতো অন্যান্য শহরে ২০১১ সাল থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।'

এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফাদজরোয়েল রহমান বলেন, পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে তা নির্ভর করছে পরিবেশমন্ত্রীর ওপর।

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট উইডোডো রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে ১৩০০ কিলোমিটার দূরে বরনিও দ্বীপের পূর্ব কালিমান্তানে নিয়ে যেতে চান। রাজধানী স্থানান্তরের ফলে কর্মকর্তারা সেখানকার পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নিতে পারবেন। ২০২৪ সালের মধ্যে নতুন জায়গায় রাজধানী স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাজ হলেও সব কাজ শেষ করতে আরও বিশ বছর লেগে যাবে বলে জানান তিনি।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জাকার্তাবাসীর প্রশ্ন রাজধানী স্থানান্তরই কি বায়ু দূষণ সমস্যার সমাধান ?

সারাবাংলা/আরএফ/একেএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন