বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি সচল রেখেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে

September 18, 2021 | 11:30 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: দেশের পরিবেশ যতভাবে দূষিত হচ্ছে তার মধ্যে নদী দূষণ অন্যতম। নদী দুষণের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয় নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ট্যানারির বর্জ্য। নদী দূষণ রোধে তাই ট্যানারি বন্ধের দাবি উঠছে কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু, অর্থনীতি সচল রাখতে ট্যানারি বন্ধ না করে বর্জ্য সমস্যা সমাধানের অন্য উপায় খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেই আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ‘বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ ও প্রতিকার’ শিরোনামে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, 'ট্যানারি বন্ধের নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাই না আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে ট্যানারি বন্ধ হোক। কারখানায় ইটিপি স্থাপন করে বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করতে হবে। যাতে আমাদের উন্নয়নের পাশাপাশি নদীকেও বাঁচিয়ে রাখা যায় আর পরিবেশও রক্ষা পায়। ব্রিটিশরা যদি দূষিত টেমস নদীকে ফিরিয়ে আনতে পারে  তাহলে আমরাও বুড়িগঙ্গাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো বলে আশা রাখি।'

বিজ্ঞাপন

সভায় স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, প্লাস্টিক আর একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র নদীতে নিক্ষেপ করায় নদীর অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। নদীকে বদলানোর জন্য আগে নিজেদের বদলাতে হবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই নদীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে হবে দূষণ ও দখলের হাত থেকে।

দূষণবিরোধী শক্তিশালী নাগরিক প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইউএসএআইডি, এফসিডিও এবং কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রকে (ক্যাপস) সঙ্গে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে নদী দূষণ রোধে পরিচালিত ওই নাগরিক সভায় ঢাকা শহরের প্রধান নদী বুড়িগঙ্গাকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে প্রাণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই আলোচনাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বুড়িগঙ্গাকে আগের জায়গাতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হলে ব্রিটিশ সময়ের সিএসএ রেকর্ড ধরে জমি মাপতে হবে। এভাবেই আমাদের বুড়িগঙ্গাকে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। সারাদেশে নদী রক্ষার কাজ শুরু করবো আর এর শুরু হবে আমাদের এই বুড়িগঙ্গাকে রক্ষার আন্দোলনের মাধ্যমে।

সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান বলেন, 'প্রকৃতির অপার দান আমাদের ঢাকার চারপাশের নদীকে আমরা রক্ষা করতে পারছি না। পরিবেশ একা রক্ষা করা যায় না। বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।'

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সভায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। সূচনা বক্তব্য রাখেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র ইলিয়াছুর রহমান বাবুল, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মকবুল হোসেন, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, এবং ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হোসেন।

কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান বাবুল বলেন, আগে চান্দিঘাটে পানির পাম্প ছিল। সেটার মাধ্যমে আমরা বুড়িগঙ্গার পানি খেতাম। এখন পরিশোধন করেও এই বুড়িগঙ্গার পানি খাওয়া যোগ্য থাকে না। ট্যানারি হতে নির্গত ক্রোমিয়াম পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে যা ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করছে। এ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি ধীরে ধীরে মাটির গভীরে চলে যাচ্ছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই পানি হাতে-পায়ে লাগলে সেখানে ঘা হয়। বুড়িগঙ্গা আমাদের নদী। একে বাঁচানোর কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

কাউন্সিলর মো. হোসেন বলেন, সৎকর্ম কখনো বিফলে যায় না। দূষণবিরোধী যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজন চলছে সেটা দিয়েই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মেসেজ গিয়েছে যে এটাকে পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তনের জন্য এলাকার মানুষকে সচেতন করতে হবে।

কাউন্সিলর মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, নদী দূষণ কমানোর জন্য দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করতে হবে। নদীকে বাঁচাতে দখলমুক্ত করতে হবে।

কাউন্সিলর মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমরা আমাদের বুড়িগঙ্গাকে বাচাঁতে একসঙ্গে কাজ করব। তাহলেই রক্ষা পাবে আমাদের নদী।

সভায় নাগরিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের ক্যামেলিয়া চৌধুরী, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জামাল, সচেতন নগরবাসী'র সভাপতি জিএম রুস্তম খান, নিরাপদ চিকিৎসা চাই'র মহাসচিব উম্মে সালমা, ক্লিন রিভার বাংলাদেশের সভাপতি সোহাগ মহাজনসহ নানা পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও নেতৃবৃন্দ।

সারাবাংলা/আরএফ/একেএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন