বিজ্ঞাপন

বন বিভাগের জায়গায় সরকারি একাডেমি নির্মাণে সংসদীয় কমিটির ‘না’

September 19, 2021 | 9:52 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কক্সবাজারে বন বিভাগের ৭০০ একর বনভূমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এরকম একটি স্থানে একাডেমি নির্মাণ করা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এমন আশঙ্কা থেকেই এ আপত্তি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন ও মো. শাহীন চাকলাদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা থেকে জানা গেছে, ওই জমিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ১০০ একর সৃজিত বাগান রয়েছে। ২০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ওই এলাকাটি হাতি, বানর, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল। এরকম একটি এলাকায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বলা হয়— কক্সবাজারে বন বিভাগের ৭০০ একর বনভূমিতে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে বন অধিদফতর। তাদের এ অভিমতের সঙ্গেই একমত পোষণ করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের ওই জায়গায় প্রশিক্ষণ একাডেমি বাস্তবায়ন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি। তাই আমরা ওই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমতি দিতে না করেছি। পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার চলছে, সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা যদি বনবিভাগের জমি নিয়ে নেয়— এটি ঠিক হবে না।

বিজ্ঞাপন

সাবেক হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আমরা সবসময় সমর্থন করি। কিন্তু প্রস্তাবিত স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। কারণ এটি আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি সংবিধান পরিপন্থি। প্রকল্পটি হোক, তবে অন্য জায়গায়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা বোঝার চেষ্টা করছি, এটা কীভাবে হলো। ভূমির আকার ও প্রকৃতি বর্ণনা না করে কেবল দাগ নম্বর ও খতিয়ান দেওয়া হলে এরকম ঘটতে পারে। আমরা মনে করি সেটিই হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখব। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে যে অনুমতি এসেছে, সেই দফতরও হয়তো এই বিষয়টি পুরোপুরি জানে না বলেই আমরা ধারণা করছি।

বিজ্ঞাপন

বনবিভাগ থেকে আগেই এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, বন বিভাগ থেকে আপত্তি জানালেও পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা জানত না জমির ধরন কী। তাদের কাছে হয়তো দাগ ও খতিয়ান নম্বর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই জমির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সংরক্ষিত বন হিসেবে এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন। আর এ জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয়।

সংসদীয় কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার খবর এর আগে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ঝিলংজা বনভূমির ওই এলাকা প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন। তা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্টেশন’ নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদফতরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়। সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়। পরে একাডেমি নির্মাণের জন্য ওই জমি এক টাকা প্রতীকী মূল্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ঝিলংজা বনভূমির ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে সেটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সবশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এ বনভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন