বিজ্ঞাপন

‘৫ হাজার চুরির পর’ ডিবির জালে মূলহোতা সিলেটি সাঈদ

September 20, 2021 | 5:06 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রফতানির উদ্দেশ্যে শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্রের মূলহোতা সিলেটি সাঈদ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তার আগে তিনি অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার চুরি করে ফেলেছেন। চুরির টাকা দিয়ে এরইমধ্যে সাঈদ মৌলভীবাজারে বিলাসবহুল অট্টালিকা গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া চোরাই পণ্য বিক্রি করা টাকা দিয়ে তিনি অন্তত পাঁচ শতাধিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ভ্যানের মালিক হয়েছেন। তিনি একটি গার্মেন্টস পণ্য চুরির জন্য একটি চক্রও তৈরি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একে এম হাফিজ আক্তার সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।

ডিবি প্রধান বলেন, ‘সাঈদের বিরুদ্ধে চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় ২৪টি মামলা রয়েছে। চোরাই গার্মেন্টস পণ্য বিক্রি করে স্ত্রী সন্তানদের লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ সব গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্রের হোতা সম্প্রতি আট মাস কারাভোগ শেষে বেরিয়ে ফের চোরাই কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে এবার আর রক্ষা হয়নি তার। তিনি ডিবির জালে ধরা পড়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লথিং লিমিটেড না গার্মেন্টসের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গার্মেন্টস পণ্য চুরি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা সিলেটি সাঈদসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্যরা হলেন রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪ হাজার ৭শ ৫ পিস গার্মেন্টস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র। বিশ্বে লিডিং রফতানিকারক বাংলাদেশে গার্মেন্ট শিল্পকে ঘিরে চোরচক্রের কারণে সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’

তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘গত ১১ মে জয়ন্তি নীট ওয়্যার লিমিটেডের তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০ পিস পণ্য শিপমেন্ট করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌঁছার পর জানা যায়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম। এ জন্য বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯শ’ ৮ ডলার জরিমানা করে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।’

বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘গ্রেফতার সিলেটি সাঈদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে তিনি ৬টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। চোরচক্রের অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন সময় ৪ থেকে ৫ হাজার চুরির ঘটনায় হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য।’

বিজ্ঞাপন

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘সিলেটি সাঈদের এক স্ত্রী সন্তানসহ লন্ডনে সেটেল। তার মালিকানাধীন বিশাল অট্টালিকা রয়েছে মৌলভীবাজারে। তার রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। এ সব যানবাহন তিনি ভাড়ায় ব্যবহার করতেন গার্মেন্টস পণ্য শিপমেন্টের কাজে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে যুক্ত তার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ব্যবহারে ও এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোরাইচক্র নিয়ন্ত্রণ করত।’

পণ্যচুরির পর ‍মুক্তিপণ হিসেবে ৩/৪ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপি’র মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কাছে যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করে তাহলে আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’

চোরাই গার্মেন্টস পণ্য কোথায় বিক্রি ও কারা ক্রয় করছে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি। তদন্তের স্বার্থে বলছি না। দেশের ছোট ছোট কিছু বায়িং হাউজে যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য। আর ওই সব ছোট বাইং হাউজগুলো বিদেশি ছোট ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মার্কেটেও যাচ্ছে সে সব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য।’

এত মামলা নিয়ে কিভাবে সিলেটি সাঈদ গার্মেন্ট পণ্য চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল জানতে চাইলে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘তিনি বেশ ক’বার গ্রেফতার হয়েছেন। সর্বশেষ একটি মামলায় তিনি আটমাস কারাভোগ করেন। তবে বেরিয়েই ফের গার্মেন্টস পণ্য চোরাই কারবারে জড়িয়ে পড়েন।’

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন